নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনলাইন ক্যাসিনোর অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল হাওলাদার। জিডি সূত্রে জানা যায়, মোঃ ফয়সাল হাওলাদার দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ক্রাইম রিপোর্টার এবং বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ এলাকায় সাংবাদিকতার আড়ালে পরিচালিত অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি “সংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে অনলাইন ক্যাসিনোর রমরমা বাণিজ্য, ধ্বংসের মুখে তরুণ সমাজ” শিরোনামে একটি ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত এটিএম সালাম এবং তার সহযোগীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তাকে হুমকি প্রদান, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কেরাণীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের খোলামোড়া জিয়ানগর এলাকায় নিজ অবস্থানে থাকা অবস্থায় তিনি এসব হুমকি পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিক ফয়সাল হাওলাদার বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করেছি। কিন্তু সেই সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”এ অবস্থায় নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত করার আবেদন জানান। জিডির মাধ্যমে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক মহল মনে করছে, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি বা প্রতিবন্ধকতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।উল্লেখ্য, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির নম্বর ৪১৯, তারিখ ০৭ জুন ২০২৬। অভিযোগকারী ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে থানার নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।