আজ বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী #শাবানা জন্মদিন

১২০

🌹শাবানার আসল নাম: আফরোজা সুলতানা রত্না।
চলচ্চিত্র নাম: শাবানা।
জন্ম: ১৫ জুন ১৯৫২ সালে

🌹পিতা: ফয়েজ চৌধুরী
মাতা: ফজিলাতুন্নেসা
পৈতৃক বাড়ি: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা।
গ্রাম: ডাবুয়া ।

🌹স্বামীর নাম: ওয়াহিদ সাদিক
সন্তান: দুই মেয়ে, এক ছেলে। (সুমি, ঊর্মি ও নাহিন)

🎬ঢাকার ছবিতে ১৯৬২ সালে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে শাবানার আত্মপ্রকাশ ‘রত্না’ নামে। তখন তার বয়স ছিল এগারো কি বারো। ১৯৬৬ সালে উর্দু ছবি চকোরীতে রত্না থেকে তিনি হলেন ‘শাবানা’। ১৯৭০ পর্যন্ত উর্দু ও বাংলা এবং ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কয়েকশ’ বাংলা ছবির নায়িকা ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে শাবানা অভিনয় করেছিলেন। ফয়েজ চৌধুরী তার মেয়ে রত্নাকে নিয়ে প্রায়ই এফডিসিতে আসতেন। এহতেশাম তখন ‘নতুন সুর’ নামে একটি ছবির কাজ নিয়েছেন। সেটা ছিল ১৯৬১ সালের কথা। একজন শিশু শিল্পী দরকার—রত্নাকে দেখে এহতেশাম পছন্দ করলেন। এভাবেই ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম অভিনয় জীবন শুরু হলো তার। তবে এরও অনেক পরে ১৯৬৬ সালে ‘চকোরী’ ছবি থেকে রত্না নাম পাল্টে তার নাম রাখা হলো শাবানা। ‘শাবানা’ নামটি দিলেন এহতেশাম নিজেই।

🎬নায়িকা হওয়ার আগে শাবানা শিশু অভিনেত্রী হিসেবে তালাশ, সাগর, ভাইয়া ছবিতে অভিনয় করেন। নায়িকা হিসেবে তার অভিনয় শুরু ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবিতে (১৯৬৬)। ওই ছবিতে সোনাভানের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তার নায়ক ছিলেন কাসেম। ‘চকোরী’ ছবিতে কাজ করার আগে ‘জংলী মেয়ে’ ছবির কাজ শুরু করেন তিনি। ‘জংলী মেয়ে’ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন আজিম। ‘চকোরী’ও মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। নায়ক ছিলেন নাদিম। এই ছবিতে শাবানা ও নাদিমের অসম্ভব নাম হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে নায়িকা হিসেবে চাঁদ আওর চাঁদনী, ভাগ্যচক্র ও কুলীতে; ১৯৬৯ সালে দাগ, মুক্তি; ১৯৭০ সালে পায়েল, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, বাবুল, মধুমিলন এবং একই অঙ্গে এত রূপ ছবিতে অভিনয় করেন। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘ওরা এগারোজন’-এ অভিনয় করেন শাবানা। ওই বছরই ‘অবুঝ মন’ ছবিতে অভিনয় করে সারাদেশে অসম্ভব খ্যাতি পেলেন।

🎬পাকিস্তান আমলে উর্দু ছবিতে নাদিমের সঙ্গে অভিনয় করে সফল হয়েছিলেন এই শাবানা। রাজ্জাক, ওয়াসিম, আলমগীর এরাও শাবানার নায়ক ছিলেন। “আলমগীর♥শাবানা” বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জুটি”। এই জুটির কথা বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীরা আজীবন মনে রাখবে। শাবানা বলেন আমার ক্যারিয়ার গঠনে অনেক পরিচালকের অবদান রয়েছে। এহতেশাম চাচা যদি সুযোগ না দিতেন তাহলে হয়তো ‘শাবানা’ হতে পারতাম না। সামাজিক চরিত্রে নতুন ইমেজে আমাকে পরিচিত করার ব্যাপারে কাজী জহির, মমতাজ আলী, কামাল আহমেদ-এর অবদান কোনো দিন মন থেকে সরে যাবে না। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শাবানা ঢাকার ফিল্মে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

🌹জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় শাবানা চলচ্চিত্র জগত থেকে বিদায় নিয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। এর মাঝে অনেক বছর কেটে গেলো। তবুও শাবানা নামটি এখন পর্যন্ত দর্শকের মুখে মুখে থেকে গেল। আর এ জন্যই শাবানা ঢাকার ফিল্মে কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

লঞ্চ দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

https://www.youtube.com/@DACP-TV

ভিডিও নিউজ

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী #শাবানা জন্মদিন

Update Time : ০১:৪২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
১২০

🌹শাবানার আসল নাম: আফরোজা সুলতানা রত্না।
চলচ্চিত্র নাম: শাবানা।
জন্ম: ১৫ জুন ১৯৫২ সালে

🌹পিতা: ফয়েজ চৌধুরী
মাতা: ফজিলাতুন্নেসা
পৈতৃক বাড়ি: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা।
গ্রাম: ডাবুয়া ।

🌹স্বামীর নাম: ওয়াহিদ সাদিক
সন্তান: দুই মেয়ে, এক ছেলে। (সুমি, ঊর্মি ও নাহিন)

🎬ঢাকার ছবিতে ১৯৬২ সালে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে শাবানার আত্মপ্রকাশ ‘রত্না’ নামে। তখন তার বয়স ছিল এগারো কি বারো। ১৯৬৬ সালে উর্দু ছবি চকোরীতে রত্না থেকে তিনি হলেন ‘শাবানা’। ১৯৭০ পর্যন্ত উর্দু ও বাংলা এবং ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কয়েকশ’ বাংলা ছবির নায়িকা ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে শাবানা অভিনয় করেছিলেন। ফয়েজ চৌধুরী তার মেয়ে রত্নাকে নিয়ে প্রায়ই এফডিসিতে আসতেন। এহতেশাম তখন ‘নতুন সুর’ নামে একটি ছবির কাজ নিয়েছেন। সেটা ছিল ১৯৬১ সালের কথা। একজন শিশু শিল্পী দরকার—রত্নাকে দেখে এহতেশাম পছন্দ করলেন। এভাবেই ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম অভিনয় জীবন শুরু হলো তার। তবে এরও অনেক পরে ১৯৬৬ সালে ‘চকোরী’ ছবি থেকে রত্না নাম পাল্টে তার নাম রাখা হলো শাবানা। ‘শাবানা’ নামটি দিলেন এহতেশাম নিজেই।

🎬নায়িকা হওয়ার আগে শাবানা শিশু অভিনেত্রী হিসেবে তালাশ, সাগর, ভাইয়া ছবিতে অভিনয় করেন। নায়িকা হিসেবে তার অভিনয় শুরু ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবিতে (১৯৬৬)। ওই ছবিতে সোনাভানের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তার নায়ক ছিলেন কাসেম। ‘চকোরী’ ছবিতে কাজ করার আগে ‘জংলী মেয়ে’ ছবির কাজ শুরু করেন তিনি। ‘জংলী মেয়ে’ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন আজিম। ‘চকোরী’ও মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। নায়ক ছিলেন নাদিম। এই ছবিতে শাবানা ও নাদিমের অসম্ভব নাম হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে নায়িকা হিসেবে চাঁদ আওর চাঁদনী, ভাগ্যচক্র ও কুলীতে; ১৯৬৯ সালে দাগ, মুক্তি; ১৯৭০ সালে পায়েল, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, বাবুল, মধুমিলন এবং একই অঙ্গে এত রূপ ছবিতে অভিনয় করেন। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘ওরা এগারোজন’-এ অভিনয় করেন শাবানা। ওই বছরই ‘অবুঝ মন’ ছবিতে অভিনয় করে সারাদেশে অসম্ভব খ্যাতি পেলেন।

🎬পাকিস্তান আমলে উর্দু ছবিতে নাদিমের সঙ্গে অভিনয় করে সফল হয়েছিলেন এই শাবানা। রাজ্জাক, ওয়াসিম, আলমগীর এরাও শাবানার নায়ক ছিলেন। “আলমগীর♥শাবানা” বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জুটি”। এই জুটির কথা বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীরা আজীবন মনে রাখবে। শাবানা বলেন আমার ক্যারিয়ার গঠনে অনেক পরিচালকের অবদান রয়েছে। এহতেশাম চাচা যদি সুযোগ না দিতেন তাহলে হয়তো ‘শাবানা’ হতে পারতাম না। সামাজিক চরিত্রে নতুন ইমেজে আমাকে পরিচিত করার ব্যাপারে কাজী জহির, মমতাজ আলী, কামাল আহমেদ-এর অবদান কোনো দিন মন থেকে সরে যাবে না। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শাবানা ঢাকার ফিল্মে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

🌹জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় শাবানা চলচ্চিত্র জগত থেকে বিদায় নিয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। এর মাঝে অনেক বছর কেটে গেলো। তবুও শাবানা নামটি এখন পর্যন্ত দর্শকের মুখে মুখে থেকে গেল। আর এ জন্যই শাবানা ঢাকার ফিল্মে কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।