গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে একটি মহিষ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিককে হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি চোরাই মহিষ উদ্ধার এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগের খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে যান কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা জহির, আরিফ ও সাদ্দামসহ কয়েকজন তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জানান যে, সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বক্তব্য উপেক্ষা করে কয়েকজন ব্যক্তি উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মহিষ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় অধিকাংশ মানুষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তুললেও কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরবর্তীতে দুই সাংবাদিককে থানায় নেওয়া হয় এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, যাঁর কাছ থেকে মহিষটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো ভিডিও, অডিও বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।