গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ ইদ্রিস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার, সাংগঠনিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর একটি অংশ। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বর্তমান নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত প্রায় ১৭ বছরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজেদের উপেক্ষিত ও কোণঠাসা মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, দলীয় সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, কোনাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পেছনেও বর্তমান নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি স্থানীয় রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে নাসির পালোয়ান হত্যা মামলার অভিযুক্তদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে বর্তমান কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর একটি অংশ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে নতুন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কোনাবাড়ী থানা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তবে, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ ইদ্রিস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।