নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। দেশজুড়ে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জোরালো হলেও ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার বর্তমান দায়িত্বে থাকা ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সমূহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভুক্তভোগী নেতাকর্মী এবং সচেতন মহলের অভিযোগ, এই কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় ক্যাডারের মতো আচরণ করেছেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের ঘোষিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার ও সুশাসনের নীতির আলোকে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের বিতর্কিত চিত্র: অনুসন্ধানে জানা যায়, খন্দকার শাকের আহমেদ বিগত সরকারের পুরো মেয়াদে এবং জুলাই আন্দোলনের সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। তিনি অতীতে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নেত্রকোনা সদর থানা এবং জামালপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান কর্মস্থল দুর্গাপুর থানাসহ পূর্বের প্রতিটি কর্মকালে তিনি নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে স্থানীয় প্রভাবশালী দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তার কার্যকালে নিম্নলিখিত গুরুতর অপরাধমূলক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছিল: মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি: সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দমন করার উদ্দেশ্যে অসংখ্য গায়েবি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। নির্বিচারে গ্রেফতার ও নির্যাতন: রাতের অন্ধকারে বিরোধী রাজনৈতিক মতের অনুসারীদের বাড়িঘরে হামলা, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং থানায় এনে রিমান্ডের নামে অমানবিক ও পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন: রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন এই কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন পুরো পুলিশ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা চলছে, তখন এমন প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ থানায় বহাল থাকা নিয়ে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক নীরবতা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন জুলাই আন্দোলনের পর সারা দেশে পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার এবং বিতর্কিত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এবং রহস্যজনক কারণে খন্দকার শাকের আহমেদের মতো অভিযুক্ত কর্মকর্তা এখনও দুর্গাপুর থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার গুলো। যেসব কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই দলীয় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জনরোষের জন্ম দিয়েছেন, তারা কীভাবে এখনও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত রাখেন, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান:“বর্তমানে এমপি ডাক্তার আনোয়ার স্যারের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সবই জানতে পারবেন এবং আমার ব্যাপারেও বিস্তারিত জানতে পারবেন”। বিএনপি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি-বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল রুটিন বদলি বা সাময়িক স্থবিরতা যথেষ্ট নয়। বরং প্রতিটি বিতর্কিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক তদন্ত ও কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হওয়া উচিত। জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের রক্তের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অবিলম্বে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।