স্টাফ রিপোর্টার:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রায় চার দশক পর এই মর্যাদাপূর্ণ পদে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে তিনি সভাপতিত্ব করবেন। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় ছয়টি অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পদক্ষেপ, মানবাধিকার ও মানবিক বিষয়াবলি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এবং বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ছয়টি অগ্রাধিকার অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কার্যকর বহুপাক্ষিক উদ্যোগ অপরিহার্য। শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংঘাত প্রতিরোধ, দ্রুত মধ্যস্থতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন বৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর অর্থায়ন, মানবাধিকার সুরক্ষায় বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ জোরদারের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ পরিষদের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সমান ভোটাধিকার থাকলেও ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর। বাংলাদেশের জন্য এই নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।