Dhaka ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুমকীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ক্ষোভে সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ নেতার পদত্যাগ

৪২

 

‎মোঃ সজিব সরদার  নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের মূল্যায়ন না করে ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজসহ ছবি ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার জেরে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রিয়াদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন।

‎২৭ আগস্ট দেওয়া পদত্যাগপত্রে তারা অভিযোগ করেন, কমিটির সভাপতি হিসেবে যাকে রাখা হয়েছে, তিনি বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক ও ধর্ষণ মামলার আসামি। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করায় তিনি কলেজের কোনো কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন না। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত হাসিবুল ইসলাম তুহিনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের পরিচিত মুখ রাজিব মৃধাকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ আরও চরমে পৌঁছেছে।

‎পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন,“আমি মনে করি এই কমিটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই আমি সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করছি। তবে বিএনপি ও ছাত্রদলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাব।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, “সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগপত্র আমরা পাইনি। সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ নিয়ে বিতর্ক আছে, এ বিষয়ে তদন্ত টিম কাজ করছে। রাজিব মৃধার ব্যাপারে অভিযোগ এখনই প্রথম শুনলাম। আর মমিন মৃধা দুই সন্তানের জনক—এমন প্রমাণও আমাদের হাতে নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের হাইকম্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎বিতর্কিত এই কমিটিকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ত্যাগী ও মাঠের কর্মীদের বঞ্চিত করে ছাত্রলীগের পরিচিত কর্মীদের দিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে—যা ছাত্রদলের মূল আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

‎স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান ছাত্রনেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা না হলে সংগঠনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

আজ পবিত্র শবে বরাত

https://www.youtube.com/@DACP-TV

ভিডিও নিউজ

দুমকীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ক্ষোভে সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ নেতার পদত্যাগ

Update Time : ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
৪২

 

‎মোঃ সজিব সরদার  নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের মূল্যায়ন না করে ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজসহ ছবি ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার জেরে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রিয়াদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন।

‎২৭ আগস্ট দেওয়া পদত্যাগপত্রে তারা অভিযোগ করেন, কমিটির সভাপতি হিসেবে যাকে রাখা হয়েছে, তিনি বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক ও ধর্ষণ মামলার আসামি। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করায় তিনি কলেজের কোনো কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন না। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত হাসিবুল ইসলাম তুহিনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের পরিচিত মুখ রাজিব মৃধাকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ আরও চরমে পৌঁছেছে।

‎পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন,“আমি মনে করি এই কমিটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই আমি সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করছি। তবে বিএনপি ও ছাত্রদলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাব।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, “সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগপত্র আমরা পাইনি। সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ নিয়ে বিতর্ক আছে, এ বিষয়ে তদন্ত টিম কাজ করছে। রাজিব মৃধার ব্যাপারে অভিযোগ এখনই প্রথম শুনলাম। আর মমিন মৃধা দুই সন্তানের জনক—এমন প্রমাণও আমাদের হাতে নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের হাইকম্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎বিতর্কিত এই কমিটিকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ত্যাগী ও মাঠের কর্মীদের বঞ্চিত করে ছাত্রলীগের পরিচিত কর্মীদের দিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে—যা ছাত্রদলের মূল আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

‎স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান ছাত্রনেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা না হলে সংগঠনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে।