

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে অন্তত ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পানিতে তলিয়ে গেলে যাত্রীরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু জানালার পাশে লাগানো স্টেইনলেস স্টিল (SS) রড বের হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এতে অনেক যাত্রী সময়মতো বের হতে না পেরে প্রাণ হারান বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
বিশেষ করে সোজা পথে কোনো সুরক্ষিত রেলিং না থাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ রেলিং থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
এ ঘটনায় পরিবহন ব্যবস্থার নকশাগত ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসের জানালায় নিরাপত্তার নামে লাগানো রড জরুরি মুহূর্তে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
তাই এ ধরনের নকশা পুনর্বিবেচনা এবং জরুরি নির্গমন (ইমার্জেন্সি এক্সিট) নিশ্চিত করা জরুরি। সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ কমিউনিটি প্যারামেডিক এসোসিয়েশন-এর আহ্বায়ক জনাব আবু হানিফ বলেন—
“দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা।
একটি দুর্ঘটনায় এতগুলো প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এটি শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং নকশাগত ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার ফল।
বাসের জানালায় লাগানো স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) রড জরুরি মুহূর্তে যাত্রীদের বের হতে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।
তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ নকশা অবিলম্বে বন্ধ করে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে ফেরিঘাটে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত রেলিং না থাকাও একটি বড় ত্রুটি।
যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে,
সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।”
এদিকে, ঈদযাত্রাকে ঘিরে চলতি সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যে ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যা দেশের সড়ক ও নৌপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ:
▪ বাসে বাধ্যতামূলক ইমার্জেন্সি এক্সিট নিশ্চিত করা
▪ জানালার ঝুঁকিপূর্ণ রড অপসারণ
▪ ফেরিতে সুরক্ষিত রেলিং স্থাপন
▪ যানবাহন চলাচলে কঠোর তদারকি
▪ দ্রুত ও দক্ষ উদ্ধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে।
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে।