পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু,লাশ বহনে ট্রলি দিলোনা হাসপাতাল!

১১৩

 

গাজী ফাতেমা

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. জাকারিয়া (২২) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তার লাশ বহনের জন্য হাসপাতালের ট্রলি না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশার মধ্যে দিয়ে চাদরে জড়িয়ে স্বজনরা লাশ বহন করেন।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নিহত জাকারিয়া পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মা হোসনেয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মোসা,হোসনেয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “টাকার বিনিময় হলেও আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেন। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার ছেলেটা বারান্দার বেড থেকে বলছিল, ‘আমারে নিচে নামাইয়া দাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”

বাবা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। ভালো ডাক্তার পর্যন্ত পাইনি। নার্সদের কাছে বারবার অনুরোধ করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। মৃত্যুর পর শেষবারের মতো লাশ বহনের ট্রলি চেয়েছিলাম, সেটিও হাসপাতাল দেয়নি। ”এ বিষয়ে দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

লঞ্চ দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

https://www.youtube.com/@DACP-TV

ভিডিও নিউজ

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু,লাশ বহনে ট্রলি দিলোনা হাসপাতাল!

Update Time : ০৩:০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
১১৩

 

গাজী ফাতেমা

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. জাকারিয়া (২২) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তার লাশ বহনের জন্য হাসপাতালের ট্রলি না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশার মধ্যে দিয়ে চাদরে জড়িয়ে স্বজনরা লাশ বহন করেন।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নিহত জাকারিয়া পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মা হোসনেয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মোসা,হোসনেয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “টাকার বিনিময় হলেও আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেন। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার ছেলেটা বারান্দার বেড থেকে বলছিল, ‘আমারে নিচে নামাইয়া দাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”

বাবা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। ভালো ডাক্তার পর্যন্ত পাইনি। নার্সদের কাছে বারবার অনুরোধ করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। মৃত্যুর পর শেষবারের মতো লাশ বহনের ট্রলি চেয়েছিলাম, সেটিও হাসপাতাল দেয়নি। ”এ বিষয়ে দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।