মোঃ আলী হোসেন মোল্লাঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১৮৯নং মরিচবুনিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, দপ্তরি–নাইটগার্ড শূন্যপদ এবং বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় স্কুলটির শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একের পর এক সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ — অভিযোগ করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মো. শহিদুল ইসলাম জানাচ্ছেন—
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ধরে রাখতে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। লেখাপড়া, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।
তবে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় একক প্রচেষ্টায় সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়—
বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় এক শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
ফলে পড়াশোনার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ প্রদান কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে দপ্তরি না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নথিপত্র সংরক্ষণে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
নাইটগার্ড না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হুমকির মুখে। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে—এ নিয়ে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
এদিকে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকার কারণে আশপাশের গবাদিপশু, পথচারী এমনকি বাইরের লোকজনও অবাধে স্কুলের মাঠে ঢুকে পড়ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী জানান—
গত কয়েক বছরে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন—
“সরকার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে এই ধরনের জরুরি সমস্যাগুলো উপেক্ষিত রয়ে যাচ্ছে।”
অভিভাবকদের দাবি—
জরুরি ভিত্তিতে একজন দপ্তরি, একজন নাইটগার্ড নিয়োগ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তারা মত দেন।
এলাকার সচেতন মহল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধানে শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।