মোঃ শাহ আলম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম দিন। দিনটি বাঙালি জাতির জন্য এক ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের উৎসব। শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, হালখাতা উৎসবসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হয়।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। তাই নববর্ষ তার কাছে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ১৯৯৮ সালে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে বিএসএস (ডিগ্রি) সম্পন্ন করে সাংবাদিকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি প্লাইবোর্ড ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হন।
বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের নীরবাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক ভোরের সময়-এর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এবং ‘বিদ্যুৎ টাইমস’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তিনি নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়। তিনি আইন সহায়তা তথ্য রিপোর্টার মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিচারপতির হাত থেকে সাংবাদিকতা, কলাম লেখা, সংগঠন পরিচালনা ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে সম্মাননা পদক অর্জন করেছেন। এছাড়া গত বছর জাতীয় দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকার পক্ষ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক’ সম্মাননাও লাভ করেন।
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ‘বিশ্ব আশেকে রাসূল হযরত ওয়ায়েস করনী (রহ.) ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।
একইসঙ্গে একজন সফল প্লাইবোর্ড ব্যবসায়ী হিসেবে ‘সকল এন্টারপ্রাইজ’ তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে। তিনি মনে করেন, ব্যবসায় সফল হওয়ায় সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা তার জন্য সহজ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের শৈশব-কৈশোরে পহেলা বৈশাখে যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। আগে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই হালখাতা উৎসবে একে অপরকে নিমন্ত্রণ করত। কিন্তু এখন সেই চিত্র আর তেমন দেখা যায় না। আমরা দিন দিন সম্প্রীতির বন্ধন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং সবকিছুতেই ধর্মীয় বিভাজন টেনে আনছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালীর সার্বজনীন উৎসব। তাই পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই বাঙালীর প্রকৃত সার্থকতা।”
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন—
“শুভ বাংলা নববর্ষ।”