ফারুক আহমেদ, মাগুরা :
মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে আকুব্বার মোল্লা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযান করে ডিএনসি। গোপন খবরের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) অফিসের একটি টিম ১১ জন সদস্য গাড়ি নিয়ে আকুব্বার মোল্লার গ্রামের বাড়িতে অভিযান ও ধরতে গেলে হ্যান্ডকাফ লাগানো অবস্থায় ঘটনাস্থলেই আকুব্বার ঢলে পড়ার এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
রবিবার ১২ই এপ্রিল সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে ১১ জন ডিএনসির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। এরপরে হ্যান্ডকাফ লাগানো অবস্থায় আকুব্বার মোল্লা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ধরে মাটিতে বসে ঢলে পড়লে তার অবস্থার অবনতি দেখে ডিএনসির সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে চাইলে গ্রামের লোকজন বাঁধা দেয়।
এরপরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের গণপিটুনি দিতে উদ্যত হলে মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাদেরকে মহম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চরপাড়া গ্রামের মাজেদ মোল্লার পুত্র আকুব্বার মোল্লা পূর্বে থেকে মাদক কারবারির সাথে জড়িত ছিলো বলে এলাকাবাসীর লোকজনের মুখে থেকে শোনা যায়।
ঘটনার বিষয়ে মৃত আকুব্বার মোল্লার স্ত্রী জানান, আমার এক পুত্র ও দুই কন্যা নিয়ে ঘর সংসার করছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে আজকে আমার স্বামী ঘরে ঘুমাই রয়েছে ওরা এসে তাকে ঘুম থেকে উঠায়ে কানের নিচে কসে চড় মেরেছে। তখন আকুব্বার বলে ভাই আপনারা আমাকে মারেন না আমার কাছে কিছু নেই আপনারা আমাকে মারেন না আমি ওসব কিছু করি নাই।
আমিও বলেছিলাম আমার কথা না শুনে তারা উঠেই আফুর উপুর প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে, বাঁশ দিয়ে, লাঠি দিয়ে শরীরে আঘাত করে বেদম আকারে মারধর করে। আমার ঘরে বাড়িতে কিছু পাইনি বাগান থেকে কে বা কাহারা কি থুয়ে গেছে তাই পেয়ে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। ১০ থেকে ১২ জন এসেছিলো এবং আমাকেও মেরেছে আর তারা পরিচয় দিয়েছে ডিবির লোক মাগুরা থেকে আসছি।
আমার বাড়িঘর তন্ন তন্ন তলাশ করে কিছু পায়নি তারপর বাগানে নিয়ে যায় আমি সাথে গিয়েছিলাম আমার স্বামী পানি খেতে চেয়েছিল তাও দেয়নি। এরপর আবার বাড়ি নিয়ে এসে বুকে লাথি দিয়ে আঘাত করে এবং ঘরে নিয়ে এসে বাড়ও মেরে ফেলেছে। বেদম আকারে মারধর করার জন্য সে মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বসে ঢলে পড়লে মৃত্যু হয়।
আকুব্বার মোল্লার চাচাতো ভাই জানান, ইয়াবা ও গাঁজা দে এই বলে মারার পর অসুস্থতা হওয়ার পর মাথায় পানি ঢালা হলে ২-৩ মিনিটের পর পড়ে গেছে মাটিতে তখন মৃতদেহ গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় ঠেকানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে সে ফোন ধরে নাই এবং কল লাইন কেটে দেয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন জানান, আমি সহ ১১ জন অভিযানে গিয়ে ছিলাম বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়ায় আপনি সিপাই জুবায়েদের সাথে কথা বলেন।
তখন জুবায়েদ জানান, অভিযান করা হয়েছে আমরা আলামত পেয়েছি আমরা এই সময় হ্যান্ডকাফ লাগানোর পর ভিডিও করার সময় আকুব্বার মাথা ধরে বসে পড়ে এরপর শোনলাম মারা গেছে।
আমাদের সদস্যদের মধ্যে থেকে সিপাই মিঠুন বেপারী, সিপাই ইমন, সিপাই ইয়াসিন ও গাড়ি চালক হাফিজুর ইসলাম আহত হয়েছে। বাঁশ, লাঠি, প্লাস্টিকের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা ও ভিত্তিহীন আমরা ভিডিওতে স্বাভাবিক কথা বলছি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহকারি উপপরিদর্শক লিটন নন্দি জানান, ৫০০ গ্রাম গাঁজা ঘর থেকে পেয়েছেন ব্যাগের মধ্যে এরপর আকুব্বার ঢলে মাটিতে পড়ে গেলে আমরা ৪-৫ জন গ্রামের লোকজনের আক্রমণ করার ভয়ে পালাইছি ওখান থেকে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাওয়া হয়, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশা হয়। আর সেখানে ডিএনসির সদস্যরা অভিযানে গিয়ে ছিলো।
এছাড়াও মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মুহঃ শাহনুর জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং মৃত আকুব্বার মোল্লার পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাগুরা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।