মোঃ মেহেদী হাসান ( বাচ্চু) বরিশাল ব্যুরো:

 

পটুয়াখালীর গ্রাম গঞ্জে নেমে এসেছে অন্ধকারের এক দীর্ঘ ছায়া। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, আর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার সদর লোহালিয়া ইউনিয়ন, গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়ন ও আমখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিনের পর দিন লোডশেডিং যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কখনো সকাল, কখনো বিকেল, আবার কখনো গভীর রাতকোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফিরে আসছে অনিশ্চয়তার মাঝে।

বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম সংকটে।

অন্ধকারে মোমবাতি কিংবা কুপির আলোয় পড়ালেখা করতে গিয়ে তাদের চোখে-মুখে ভেসে উঠছে হতাশা আর ক্লান্তি।

আমখোলা ইউনিয়নের আব্দুর রহিম বলেন, ছেলে-মেয়ের, পড়াশোনা করতে পারে না, যখন তখন বিদ্যুৎ চলে যায় এভাবে হলে ছেলে-মেয়ের রেজাল্ট ভালো হবে না আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।

লোহালিয়া ইউনিয়নের মিরাজ জমাদ্দার বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায় বোঝাই যায় না, সারাদিনে দুই এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় কোনদিন পাওয়া যায় না।

অনেকেই বলছে, “এভাবে আর কতদিন? স্বপ্নগুলো কি অন্ধকারেই থেমে যাবে?”

অভিভাবকদের মাঝেও বাড়ছে উদ্বেগ। তারা জানান, বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহে সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া যেন সবকিছুই অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। ফলে ক্ষোভ আর হতাশা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

গলাচিপার সাধারণ মানুষ এখন একটি প্রশ্নই বারবার উচ্চারণ করছে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?”

দ্রুত সময়ের মধ্যে লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার পরিবেশসহ সামগ্রিক জনজীবন আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।