​খলিফা সাগর : নিজস্ব প্রতিবেদক। 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ১নং আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চাল না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় হতদরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষ।​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চাল বিতরণ কেন্দ্রের মেঝেতে পড়ে থাকা চালের খুদ ও গুঁড়া হাত দিয়ে কুড়িয়ে থলেতে ভরছেন এক অসহায় বৃদ্ধা। ঈদের আনন্দ যেখানে সবার ঘরে ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেখানে সরকারি সহায়তার তালিকায় নাম থেকেও এক বৃদ্ধাকে এভাবে মেঝে থেকে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে— এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ও সাধারণ উপকারভোগীদের চাল না দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য (মহিলা মেম্বার) এবং তার স্বামী নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের মাঝে বস্তায় বস্তায় চাল বিতরণ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধেও সরকারি এই চাল আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের নামে সরকারি কার্ড ইস্যু করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তারা কোনো চাল পাননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচণ্ড রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের সাফ জানিয়ে দেন, “চাল শেষ, আর চাল নেই।”এক ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাগো নামে কার্ড ইস্যু হইছে। কিন্তু পরিষদে আইলে কয় চাল নাই। তাইলে আমাগো চাল গেল কই? মেম্বার আর নেতারা সব চাল নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মইধ্যে ভাগ কইরা লইয়া গেছে। আমাগো ঈদের আনন্দ মাটি হয়া গেল। পবিত্র উৎসবের মুখে সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত হয়ে আমখোলা ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে জড়িত ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে সরকারি চাল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।