মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু) বরিশাল ব্যুরো:
বরিশালে দিন দিন বাড়ছে জলাতঙ্ক রোগ, হাসপাতালে নেই কোন প্রতিষেধক টিকা। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।ডিসেম্বর থেকে বরিশালের কোনো সরকারি হাসপাতালেই মিলছে না জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা। প্রতিদিন বিড়াল ও কুকুরের কামড় কিংবা আঁচড় নিয়ে শত শত মানুষ ছুটছেন হাসপাতালে… কিন্তু ফিরছেন হতাশ হয়ে। শুধু বরিশাল সদর হাসপাতালেই প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী আসছেন টিকা নিতে। এছাড়া আশপাশের জেলা—পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি থেকেও রোগীদের এখানে পাঠানো হচ্ছে।
ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিয়ে বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকে একটি ভ্যাকসিন কিনে কয়েকজন মিলে ভাগ করে নিচ্ছেন, যা চিকিৎসকদের মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সঠিক ডোজ নিশ্চিত না হওয়ায় কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, এমনকি নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন ব্যবহারের ঝুঁকিও থাকে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ভ্যাকসিন না থাকায় তারা চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন। “রোগী আসছে, কিন্তু দেওয়ার মতো ভ্যাকসিন নেই—এটা আমাদের জন্যও বিব্রতকর,” বলেন এক চিকিৎসক। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় মাসিক প্রায় ৯,৭৪০ ভায়াল ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮০ ভায়াল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ না থাকায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বরিশাল সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, “গত ডিসেম্বর থেকেই আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন নেই।
আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি, বিষয়টি টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন।” এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো টিকা নিলে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। তাই দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
Reporter Name 








