০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও চার্জশিটে ভুক্তভোগী এশিয়ান টিভির সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৮২ Time View
১০৩

 

মো: মেহেদী হাসান (বাচ্চু) বরিশাল ব্যুরো:

এশিয়ান টিভির ঢাকা দক্ষিণের করেসপন্ডেন্ট ফয়সাল মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও পুলিশি চার্জশিটকে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ফয়সাল মাহমুদের অভিযোগ, তিনি সহ তার পরিবার হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আসামি করে একটি “মিথ্যা মামলা নিয়েছে ও তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় চার্জশিট” দেওয়া হয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এসআই নজমুল মোল্লা টাকার বিনিময়ে এই চার্জশিট প্রদান করেছে আমাকে ফাঁসানোর জন্য।

ভুক্তভোগী ফয়সাল মাহমুদ দাবি করেন, ২০১৬ সালে আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হলেও মালা বেগম স্থানীয় একটি প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমার নিজস্ব বাড়ি দখল করে আছেন। এ নিয়ে একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পূর্বেও আমার বিরুদ্ধে একাধিক ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, মালা বেগমের সঙ্গে তার সহযোগী হিসেবে মিম, ঝিম, পারভিন, তফাজ্জেল, রুবেল এবং কথিত ‘ভুয়া ডাক্তার’ সোহেল একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হামলার মাধ্যমে দখল ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছে।

সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গেলে ফয়সাল মাহমুদের ওপর হামলা চালান মালা বেগমের দুই মেয়ে,ভুয়া ডাক্তারসোহেল,রুবেল,পারভীন,তোফাজ্জল এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একই ঘটনায় তার স্ত্রীর মাথা ফেটে যায় যা হত্যাচেষ্টার শামিল। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে যার প্রমাণ বিদ্যমান।

ওই ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ মালা বেগম ও তার এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরদিনই তারা জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ফয়সাল মাহমুদ, তার স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়।

পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, তার ও তার স্ত্রীর গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজমুল মোল্লা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে একটি “মিথ্যা চার্জশিট” দাখিল করেছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “আমি নিজেই হামলার শিকার, আমার হাত ভাঙা এবং আমার স্ত্রীর মাথা ফাটার প্রমাণ রয়েছে। তারপরও আমাকে আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং পরিকল্পিত হয়রানি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে একজন ব্যক্তি ও তার পরিবার দৃশ্যমানভাবে হামলার শিকার, সেখানে কীভাবে তাদের বিরুদ্ধেই হত্যা চেষ্টা ও মারধরের মতো গুরুতর ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। ভুক্তভোগী নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতেই প্রমাণের ভিত্তিতে এই বিতর্কিত ঘটনার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

বাকেরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও চার্জশিটে ভুক্তভোগী এশিয়ান টিভির সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বাকেরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও চার্জশিটে ভুক্তভোগী এশিয়ান টিভির সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ০৩:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
১০৩

 

মো: মেহেদী হাসান (বাচ্চু) বরিশাল ব্যুরো:

এশিয়ান টিভির ঢাকা দক্ষিণের করেসপন্ডেন্ট ফয়সাল মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও পুলিশি চার্জশিটকে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ফয়সাল মাহমুদের অভিযোগ, তিনি সহ তার পরিবার হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আসামি করে একটি “মিথ্যা মামলা নিয়েছে ও তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় চার্জশিট” দেওয়া হয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এসআই নজমুল মোল্লা টাকার বিনিময়ে এই চার্জশিট প্রদান করেছে আমাকে ফাঁসানোর জন্য।

ভুক্তভোগী ফয়সাল মাহমুদ দাবি করেন, ২০১৬ সালে আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হলেও মালা বেগম স্থানীয় একটি প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমার নিজস্ব বাড়ি দখল করে আছেন। এ নিয়ে একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পূর্বেও আমার বিরুদ্ধে একাধিক ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, মালা বেগমের সঙ্গে তার সহযোগী হিসেবে মিম, ঝিম, পারভিন, তফাজ্জেল, রুবেল এবং কথিত ‘ভুয়া ডাক্তার’ সোহেল একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হামলার মাধ্যমে দখল ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছে।

সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গেলে ফয়সাল মাহমুদের ওপর হামলা চালান মালা বেগমের দুই মেয়ে,ভুয়া ডাক্তারসোহেল,রুবেল,পারভীন,তোফাজ্জল এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একই ঘটনায় তার স্ত্রীর মাথা ফেটে যায় যা হত্যাচেষ্টার শামিল। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে যার প্রমাণ বিদ্যমান।

ওই ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ মালা বেগম ও তার এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরদিনই তারা জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ফয়সাল মাহমুদ, তার স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়।

পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, তার ও তার স্ত্রীর গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজমুল মোল্লা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে একটি “মিথ্যা চার্জশিট” দাখিল করেছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “আমি নিজেই হামলার শিকার, আমার হাত ভাঙা এবং আমার স্ত্রীর মাথা ফাটার প্রমাণ রয়েছে। তারপরও আমাকে আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং পরিকল্পিত হয়রানি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে একজন ব্যক্তি ও তার পরিবার দৃশ্যমানভাবে হামলার শিকার, সেখানে কীভাবে তাদের বিরুদ্ধেই হত্যা চেষ্টা ও মারধরের মতো গুরুতর ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। ভুক্তভোগী নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতেই প্রমাণের ভিত্তিতে এই বিতর্কিত ঘটনার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।