০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা: পার্বত্য চট্টগ্রাম, রোহিঙ্গা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ২ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন নীতি, অধ্যাদেশ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর সমালোচনা তুলে ধরে এক বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য সামনে এসেছে। বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বিদেশি প্রভাবকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।

লেখক উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর অধ্যাপক ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি প্রথমদিকে আশাবাদী ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব দেশের নেতৃত্বে আসায় বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, দেশের নীতিনির্ধারণে পশ্চিমা প্রভাব বাড়ছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা এনজিও-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বক্তব্যে আরো বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার প্রথম ভাষণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে “আদিবাসী” হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে লেখক প্রকাশ্যে আপত্তি জানান এবং পরবর্তীতে পাঠ্যপুস্তকে “আদিবাসী” শব্দ অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলন, সেমিনার ও রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থনে সরকারকে এ বিষয়ে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও সংশ্লিষ্ট রিভিউ মামলাকে কেন্দ্র করেও বিদেশি চাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। বক্তব্যে দাবি করা হয়, কয়েকজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত ও সরকারের কিছু উপদেষ্টা আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকারের পদক্ষেপেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার নামে একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিএনপি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে স্টারলিংক সংযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।

সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩১টি অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারা পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে লেখক বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যদের উচিত প্রতিটি আইন ও অধ্যাদেশ গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো উপাদান অজান্তেই কার্যকর না হয়ে যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা: পার্বত্য চট্টগ্রাম, রোহিঙ্গা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা: পার্বত্য চট্টগ্রাম, রোহিঙ্গা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

Update Time : ০৬:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন নীতি, অধ্যাদেশ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর সমালোচনা তুলে ধরে এক বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য সামনে এসেছে। বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বিদেশি প্রভাবকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।

লেখক উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর অধ্যাপক ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি প্রথমদিকে আশাবাদী ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব দেশের নেতৃত্বে আসায় বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, দেশের নীতিনির্ধারণে পশ্চিমা প্রভাব বাড়ছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা এনজিও-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বক্তব্যে আরো বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার প্রথম ভাষণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে “আদিবাসী” হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে লেখক প্রকাশ্যে আপত্তি জানান এবং পরবর্তীতে পাঠ্যপুস্তকে “আদিবাসী” শব্দ অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলন, সেমিনার ও রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থনে সরকারকে এ বিষয়ে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও সংশ্লিষ্ট রিভিউ মামলাকে কেন্দ্র করেও বিদেশি চাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। বক্তব্যে দাবি করা হয়, কয়েকজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত ও সরকারের কিছু উপদেষ্টা আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকারের পদক্ষেপেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার নামে একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিএনপি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে স্টারলিংক সংযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।

সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩১টি অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারা পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে লেখক বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যদের উচিত প্রতিটি আইন ও অধ্যাদেশ গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো উপাদান অজান্তেই কার্যকর না হয়ে যায়।