০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা সেবার নামে চলছে চরম নৈরাজ্য,ভূয়া চিকিৎসকের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। নিদিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ হয় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৫২ Time View
৭৭

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী  । 

পটুয়াখালী জেলার  মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চলছে ভুয়া চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা। ​চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলে এখন চরম নৈরাজ্যের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের অব্যবস্থাপনায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। একদিকে ভুয়া চিকিৎসকের রমরমা ব্যবসা, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এখন খাদের কিনারায়।

ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন একদল অসাধু ব্যক্তি। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের  ভুয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত  জটিলতায় ভুগছেন গবাদি পশু। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ভুয়া চিকিৎসক নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ  কর্মকর্তা ও  DDP চিকিৎসক চঞ্চল  কুমার রায় যখনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তখনই শৈবাল নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে পশু-পাখির চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও আদতে তার কোনো চিকিৎসা বিষয়ক সনদ নেই।

LDDP প্রকল্পের  প্রানি সম্পদ মাঠ সহকারী শৈবাল কৃষ্ণ সরকার তিনী মাঠ সহকারী হওয়া সত্তে  হাসপাতালের একটি কক্ষে অনৈতিক ভাবে দিনের পর দিন চিকিৎসক পরিচয়ে করে যাচ্ছে গভাদী পশুর চিকিৎসা। এ ব্যাপারে এলাকায় চঞ্চল্যকর তথ্য ছরিয়ে গেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী মুঠোফোনে আমাদেরকে বিষয়গুলো অবগত করেন। সেই ভিত্তিতে আমাদের প্রতিনিধি সেখানে উপস্তিত হয়ে বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাদের একজন কে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে গিয়ে অফিস  সহায়ক সেলিম গাজির কাছে চিকিৎসকের কথা জিজ্ঞেস করিলে তিনি চিকিৎসক শৈবল কৃষ্ণ সরকারের কক্ষে  পাঠিয়ে দেন। শৈবল কৃষ্ণ সরকার জিজ্ঞেস করেন কি সমস্যা উত্তরে তিনি বলেন আমার কয়েকটি ছাগল আছে সেগুলো কোন ঘাষ খাইতেছে না,   পাতলা পায়খানা  তারপর সে একটি  প্রেসক্রিপশন করে দেয় এন্টিবায়টিক সহকারে।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে শৈবাল কৃষ্ণ সরকারের কাছে গিয়ে  চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে ও তাহার কোন D V M  সনদ আছে কিনা  জানতে চাইলে উত্তরে বলেন  তাহার কোন চিকিৎসা সনদ নেই তিনি হলেন LDDP প্রকল্পের মাঠ সহকারী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ ও LDDP কর্মকর্তা চঞ্চল রায় উপস্থিত না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি আমাদেরকে অবগত করেন যে শৈবল কৃষ্ণ সরকার তিনি হলেন প্রাণিসম্পদ মাঠ সহকারি সে কোন প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়টিক ঔষধ লিখতে পারেন না।

LDDP উপজেলা  চিকিৎসক চঞ্চল রায়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক উত্তর আমাদেরকে দিতে পারেন নাই। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল   নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণী  সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল  এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দেখা যায়, বিকেল গড়াতে না গড়াতেই হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। কোনো জরুরি পশু নিয়ে আসলে তাদের ফিরে যাওয়া হচ্ছে হতাশাবুকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী এবং দালাল চক্র মিলে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।  প্রশাসনের নীরবতাকে দায়ী করে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে অতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

মান্দায় মাদক বিরোধী অভিযানে ১০০ লিটার চোলাই মদ সহ একজন মাদক ব্যবসায়িক গ্রেফতার

চিকিৎসা সেবার নামে চলছে চরম নৈরাজ্য,ভূয়া চিকিৎসকের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। নিদিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ হয় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।

Update Time : ০৬:১২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
৭৭

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী  । 

পটুয়াখালী জেলার  মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চলছে ভুয়া চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা। ​চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলে এখন চরম নৈরাজ্যের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের অব্যবস্থাপনায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। একদিকে ভুয়া চিকিৎসকের রমরমা ব্যবসা, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এখন খাদের কিনারায়।

ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন একদল অসাধু ব্যক্তি। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের  ভুয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত  জটিলতায় ভুগছেন গবাদি পশু। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ভুয়া চিকিৎসক নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ  কর্মকর্তা ও  DDP চিকিৎসক চঞ্চল  কুমার রায় যখনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তখনই শৈবাল নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে পশু-পাখির চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও আদতে তার কোনো চিকিৎসা বিষয়ক সনদ নেই।

LDDP প্রকল্পের  প্রানি সম্পদ মাঠ সহকারী শৈবাল কৃষ্ণ সরকার তিনী মাঠ সহকারী হওয়া সত্তে  হাসপাতালের একটি কক্ষে অনৈতিক ভাবে দিনের পর দিন চিকিৎসক পরিচয়ে করে যাচ্ছে গভাদী পশুর চিকিৎসা। এ ব্যাপারে এলাকায় চঞ্চল্যকর তথ্য ছরিয়ে গেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী মুঠোফোনে আমাদেরকে বিষয়গুলো অবগত করেন। সেই ভিত্তিতে আমাদের প্রতিনিধি সেখানে উপস্তিত হয়ে বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাদের একজন কে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে গিয়ে অফিস  সহায়ক সেলিম গাজির কাছে চিকিৎসকের কথা জিজ্ঞেস করিলে তিনি চিকিৎসক শৈবল কৃষ্ণ সরকারের কক্ষে  পাঠিয়ে দেন। শৈবল কৃষ্ণ সরকার জিজ্ঞেস করেন কি সমস্যা উত্তরে তিনি বলেন আমার কয়েকটি ছাগল আছে সেগুলো কোন ঘাষ খাইতেছে না,   পাতলা পায়খানা  তারপর সে একটি  প্রেসক্রিপশন করে দেয় এন্টিবায়টিক সহকারে।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে শৈবাল কৃষ্ণ সরকারের কাছে গিয়ে  চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে ও তাহার কোন D V M  সনদ আছে কিনা  জানতে চাইলে উত্তরে বলেন  তাহার কোন চিকিৎসা সনদ নেই তিনি হলেন LDDP প্রকল্পের মাঠ সহকারী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ ও LDDP কর্মকর্তা চঞ্চল রায় উপস্থিত না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি আমাদেরকে অবগত করেন যে শৈবল কৃষ্ণ সরকার তিনি হলেন প্রাণিসম্পদ মাঠ সহকারি সে কোন প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়টিক ঔষধ লিখতে পারেন না।

LDDP উপজেলা  চিকিৎসক চঞ্চল রায়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক উত্তর আমাদেরকে দিতে পারেন নাই। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল   নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণী  সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল  এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দেখা যায়, বিকেল গড়াতে না গড়াতেই হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। কোনো জরুরি পশু নিয়ে আসলে তাদের ফিরে যাওয়া হচ্ছে হতাশাবুকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী এবং দালাল চক্র মিলে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।  প্রশাসনের নীরবতাকে দায়ী করে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে অতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।