স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নাম—সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন।
বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুর জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা মেজর ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। পারিবারিক শৃঙ্খলা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা শৈশবেই তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৬০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বিএনপিকে রাজপথের শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুই দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, শিক্ষা খাতে সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে নানা রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত শোক সত্ত্বেও তিনি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবুও তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে চলেছে।
গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বহুদলীয় রাজনীতির প্রশ্নে তাঁর অবস্থান এবং দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়াকে একটি স্মরণীয় ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মোঃ আলী হোসেন মোল্লা 









