০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু, ছেলের চোখের সামনে বাবার শেষ নিঃশ্বাস

১৯৪

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কাকড়িয়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গণেশ চন্দ্র রায় (৫২) নামে এক কৃষক মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন। শুক্রবার (৩০ মে) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়ির গোয়ালে গরুর দেখভাল করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও গোয়ালে যান গণেশ চন্দ্র রায়। গোয়ালের ভেতরে থাকা খোলা বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত হাত লাগাতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পান তাঁর ছেলে গণপতি রায় (৩০)। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একটি চেয়ারের সাহায্যে বাবাকে তার থেকে আলাদা করার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। অনেক কষ্টে বাবাকে তার ছেঁড়ে ফেলতে পারলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে গণেশ চন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে দ্রুত ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ঘটনাস্থলে যান ইনসাস অফিসারও। ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খোলা বৈদ্যুতিক তার থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।

হঠাৎ এমন করুণ মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। গণেশ চন্দ্র রায় ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সহজসরল কৃষক। তাঁর অকাল মৃত্যু পরিবার ও প্রতিবেশীদের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

বাকেরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও চার্জশিটে ভুক্তভোগী এশিয়ান টিভির সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু, ছেলের চোখের সামনে বাবার শেষ নিঃশ্বাস

Update Time : ১১:০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
১৯৪

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কাকড়িয়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গণেশ চন্দ্র রায় (৫২) নামে এক কৃষক মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন। শুক্রবার (৩০ মে) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়ির গোয়ালে গরুর দেখভাল করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও গোয়ালে যান গণেশ চন্দ্র রায়। গোয়ালের ভেতরে থাকা খোলা বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত হাত লাগাতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পান তাঁর ছেলে গণপতি রায় (৩০)। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একটি চেয়ারের সাহায্যে বাবাকে তার থেকে আলাদা করার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। অনেক কষ্টে বাবাকে তার ছেঁড়ে ফেলতে পারলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে গণেশ চন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে দ্রুত ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ঘটনাস্থলে যান ইনসাস অফিসারও। ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খোলা বৈদ্যুতিক তার থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।

হঠাৎ এমন করুণ মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। গণেশ চন্দ্র রায় ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সহজসরল কৃষক। তাঁর অকাল মৃত্যু পরিবার ও প্রতিবেশীদের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।