মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন কণ্ঠযোদ্ধা রোক্সার রহমান। দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মনোনয়ন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)–এর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-লোক সংগীত বিষয়ক সম্পাদক (২০১৯–২০২১) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি দলীয় অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।
রোক্সার রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান–এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন। তিনি বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমি–এর ছাত্রী এবং বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর বিভাগীয় গণসমাবেশে ১৪৪ ধারা চলাকালীন সময়েও লাখো জনতার উপস্থিতিতে “দেশটা তোমার বাপের নাকি? করছো ছলা কলা” গান পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন রোক্সার রহমান। প্রশাসনিক চাপ ও হুমকির মধ্যেও তিনি জাসাসের কর্মসূচিতে গানটি পরিবেশন করেন বলে জানান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
এর আগে ২০১৮ সালে “দে দে জেল ভেঙে দে তোরা দেরি করিস না” এবং বিএনপির নির্বাচনী থিমসং “দে দে সিল মেরে দে ও ধানের শীষে ডাক দিয়েছে” গান পরিবেশন করেও তিনি আলোচনায় আসেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এসব গান আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের উজ্জীবিত করে।
দলীয় সূত্রে জানা যায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় বিভিন্ন হুমকি ও চাপের মুখে একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থেকেও আন্দোলনের গান পরিবেশন অব্যাহত রাখেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুঃসময়ে তার কণ্ঠস্বর কর্মীদের সাহস জুগিয়েছে।
রোক্সার রহমান বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একজন কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে ছিলাম, আছি এবং থাকব। দল যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে, তবে জাতীয় সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলতে চাই।
দলীয় পর্যায়ে বলা হচ্ছে, শিক্ষিত ও পেশাজীবী নারী নেতৃত্বকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার চিন্তা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রসার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
উল্লেখ্য, তার দেশের বাড়ি খুলনা সদর। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
Reporter Name 

















