১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনের শাসন কি ময়মনসিংহে কার্যকর? চাঁদাবাজি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৯ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

স্টাফ রিপোর্টার,ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় গত ছয় মাসে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি,সশস্ত্র হামলা,সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা,সাংবাদিক ও শিক্ষা– প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন,পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীসহ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কালানুক্রমিক অভিযোগ ও ঘটনায় চোখ রাখা যায়: ২৩ জুন ২০২৫ – মাদ্রাসায় চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি। পালপাড়া,১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় রাত ১০টার দিকে ২০–২৫ জনের একটি দল ১,৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।

টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। পুলিশ মামলাটি গ্রেপ্তার সহ আদালতে পাঠালে পরদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ – সংবাদকর্মীর প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা।

বলাশপুরে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০,০০০ টাকা লুট, ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে “সংবাদ মিথ্যা” স্বীকার করানো হয়। পালপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল–স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সরকারি খোলা জায়গা দখল করে সেখানে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এলাকাটি ধীরে ধীরে মাদককেন্দ্র ও অপরাধ সংঘটনের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

৬ জানুয়ারি ২০২৬ – পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে মোবাইল ভিডিও ধারণ করে “চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা” স্বীকার করানোর চেষ্টা। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – ভোরে বাসায় অনুপ্রবেশ, ৩০,০০০ টাকা চাঁদা দাবিসহ লুটপাট ও ১০০ টাকার দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা: স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর ওরফে “সুন্দরী জাহাঙ্গীর” ও তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব-১৪ ও সিআইডি তদন্তে নিয়োজিত। আইনগত কাঠামো: বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০,ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে এসব অভিযোগ শাস্তিযোগ্য। বিশেষত চাঁদাবাজি, ডাকাতি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়,সরকারি সম্পত্তি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনের আওতায় পড়ে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া বনাম বাস্তবতা: প্রশাসন চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে পৃথক মামলার অগ্রগতি, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জামিন-পরবর্তী নজরদারি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে,তা এখনও পরিস্কার নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন: সরকারি জায়গা দখল করে অপরাধকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ সত্য হলে,তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাদক বিস্তার, অপরাধচক্রের প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশন: জিডি/এফআইআর নথি,ভিডিও ও অডিও প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ,সংবাদপত্র প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত। সুপারিশ:

তাৎক্ষণিক: সমন্বিত তদন্ত টিম (পুলিশ + র‍্যাব + সিআইডি),ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ,ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা। দীর্ঘমেয়াদি: চাঁদাবাজি প্রতিরোধ টাস্কফোর্স,উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা প্রটোকল, জেলা পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিবেদন প্রকাশ।

সর্বশেষ: যদি অভিযোগ গুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আইনের শাসন,প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নে রূপান্তরিত। দ্রুত,দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ তদন্তই জনমনে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারে।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
PhotoCard Icon
Create PhotoCard
28 October 2026

ভান্ডারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

https://dailyalorsomaz.com |
https://www.facebook.com

আইনের শাসন কি ময়মনসিংহে কার্যকর? চাঁদাবাজি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় প্রশ্ন

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার,ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় গত ছয় মাসে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি,সশস্ত্র হামলা,সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা,সাংবাদিক ও শিক্ষা– প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন,পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীসহ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কালানুক্রমিক অভিযোগ ও ঘটনায় চোখ রাখা যায়: ২৩ জুন ২০২৫ – মাদ্রাসায় চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি। পালপাড়া,১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় রাত ১০টার দিকে ২০–২৫ জনের একটি দল ১,৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।

টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। পুলিশ মামলাটি গ্রেপ্তার সহ আদালতে পাঠালে পরদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ – সংবাদকর্মীর প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা।

বলাশপুরে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০,০০০ টাকা লুট, ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে “সংবাদ মিথ্যা” স্বীকার করানো হয়। পালপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল–স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সরকারি খোলা জায়গা দখল করে সেখানে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এলাকাটি ধীরে ধীরে মাদককেন্দ্র ও অপরাধ সংঘটনের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

৬ জানুয়ারি ২০২৬ – পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে মোবাইল ভিডিও ধারণ করে “চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা” স্বীকার করানোর চেষ্টা। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – ভোরে বাসায় অনুপ্রবেশ, ৩০,০০০ টাকা চাঁদা দাবিসহ লুটপাট ও ১০০ টাকার দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা: স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর ওরফে “সুন্দরী জাহাঙ্গীর” ও তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব-১৪ ও সিআইডি তদন্তে নিয়োজিত। আইনগত কাঠামো: বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০,ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে এসব অভিযোগ শাস্তিযোগ্য। বিশেষত চাঁদাবাজি, ডাকাতি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়,সরকারি সম্পত্তি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনের আওতায় পড়ে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া বনাম বাস্তবতা: প্রশাসন চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে পৃথক মামলার অগ্রগতি, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জামিন-পরবর্তী নজরদারি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে,তা এখনও পরিস্কার নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন: সরকারি জায়গা দখল করে অপরাধকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ সত্য হলে,তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাদক বিস্তার, অপরাধচক্রের প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশন: জিডি/এফআইআর নথি,ভিডিও ও অডিও প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ,সংবাদপত্র প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত। সুপারিশ:

তাৎক্ষণিক: সমন্বিত তদন্ত টিম (পুলিশ + র‍্যাব + সিআইডি),ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ,ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা। দীর্ঘমেয়াদি: চাঁদাবাজি প্রতিরোধ টাস্কফোর্স,উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা প্রটোকল, জেলা পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিবেদন প্রকাশ।

সর্বশেষ: যদি অভিযোগ গুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আইনের শাসন,প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নে রূপান্তরিত। দ্রুত,দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ তদন্তই জনমনে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারে।

Share this news as a Photo Card