০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেই অনুমোদন,সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক আব্দুস সামাল

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০২:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪৪ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

কুলেন্দু শেখর দাস সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 

প্রতিষ্ঠান চালানোর নেই অনুমোদন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদরের মঙ্গলকাটা বাজারে স মিল চালাচ্ছেন আব্দুস সালাম। সীমান্তবর্তী এই বাজার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত লাগোয়া এলাকার আলোচনা আছে সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন গাছ কেটে ঐ স মিলে সরবরাহ করে চোরাকারবারিরা। তথ্য সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে বছরের পর বছর ধরে চলছে প্রশাসনের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে আব্দুস সালামের করাত কল বা স মিল। মঙ্গলকাটা বাজারে অবস্থিত এই মিলের অনুমোদন না থাকায় সম্প্রতি স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিককে আর্থিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আইন অমান্য করেই চলছে মিলে কাঠ ছিড়ানোর কাজ। স্থানীয় ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারের পাশে করাত কলের মালিক আব্দুস সালাম প্রতিদিন লক্ষ টাকার গাছ ছিড়ানোর কাজ করেন। চলতি বছরের ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় ঐ প্রতিষ্ঠানে। এ সময় বন বিভাগসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মঙ্গলকাটা বাজারে লাইসেন্স বিহীন করাত কলে কাঠ ছিড়ানোর অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিক আব্দুস সালামকে দশহাজার টাকা অর্থদন্ড করেন এবং যতোদিন পর্যন্ত বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করবেন ততোদিন করাত মিল(স-মিল) বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু মিল মালিক আব্দুস সালাম মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা এক সপ্তাহ পালন করলেও গত আগষ্ট মাস থেকে প্রশাসনের অনুমতিপত্র, লাইসেন্স ছাড়াই পূনরায় শুরু করেছেন কাঠ ছিড়ানোর কাজ। মঙ্গলকাটা গ্রামের মোঃ রফিক মিয়ার ছেলে স-মিল মালিক আব্দুস সালাম প্রভাব কাটিয়ে স্ব গর্বে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন ,মিল মালিক আব্দুস সালামের সাথে চোরাকারবারিদের যোগসাজশ থাকায় চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মেহগুনী,শিলকড়ই,আকাশীসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ এনে সমিলে রাখেন। এখনো মিলের চর্তুরদিকে শত শত গাছ রেখা আছে। অনুমতিপত্র ছাড়াই আব্দুস সালাম আবারো পুরোদমে কাঠ ছিড়ানোর কাজ শুরু করায় জনমনে নানান প্রশ্নে জন্ম দিয়েছে। মিল মালিক ও তিনজন শ্রমিক কাঠ ছিড়নোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ছটকে পড়েন মিল মালিক আব্দুস সালাম এবং সাথে সাথেই শ্রমিকরা মিলে কাঠ ছিড়নো বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে রাস্তার পাশে মিলটি স্থাপন করায় সাধারণ পথচারী ও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ধূলোবালি ও শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হলেও তারাও যেন নিরুপায়। এ ব্যাপারে মিল মালিক আব্দুস সালাম মোট ফোনের মাধ্যমে মিল চালো রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,”মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধভাবে কাঠ ছিড়ানোর কাজ করছেন।” সামনাসামনি এসে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকরা আপনারা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে”। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন(ডিআর) উক্ত করাত মিলে (স- মিলে) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,”আমরা আগামী তিন/চারদিনের মধ্যেই স-মিলটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে করাত কল সিজ করার ঘোষণা দিবো । এ ব্যপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল এই করাত কলের বিরুদ্ধে লাইসেন্স না থাকায় মোবাইল কোর্ট করে অর্থদন্ড করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করার আগ পর্যন্ত মিল চালানো বন্ধ থাকবে। কিন্তু এরপর ও যখন অবৈধভাবে মিল চালানোর হচ্ছে আমরা খুব শীঘ্রই মিলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা তিনি জানান।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
PhotoCard Icon
Create PhotoCard
28 October 2026

ভান্ডারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

https://dailyalorsomaz.com |
https://www.facebook.com

নেই অনুমোদন,সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক আব্দুস সামাল

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০২:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কুলেন্দু শেখর দাস সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 

প্রতিষ্ঠান চালানোর নেই অনুমোদন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদরের মঙ্গলকাটা বাজারে স মিল চালাচ্ছেন আব্দুস সালাম। সীমান্তবর্তী এই বাজার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত লাগোয়া এলাকার আলোচনা আছে সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন গাছ কেটে ঐ স মিলে সরবরাহ করে চোরাকারবারিরা। তথ্য সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে বছরের পর বছর ধরে চলছে প্রশাসনের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে আব্দুস সালামের করাত কল বা স মিল। মঙ্গলকাটা বাজারে অবস্থিত এই মিলের অনুমোদন না থাকায় সম্প্রতি স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিককে আর্থিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আইন অমান্য করেই চলছে মিলে কাঠ ছিড়ানোর কাজ। স্থানীয় ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারের পাশে করাত কলের মালিক আব্দুস সালাম প্রতিদিন লক্ষ টাকার গাছ ছিড়ানোর কাজ করেন। চলতি বছরের ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় ঐ প্রতিষ্ঠানে। এ সময় বন বিভাগসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মঙ্গলকাটা বাজারে লাইসেন্স বিহীন করাত কলে কাঠ ছিড়ানোর অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিক আব্দুস সালামকে দশহাজার টাকা অর্থদন্ড করেন এবং যতোদিন পর্যন্ত বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করবেন ততোদিন করাত মিল(স-মিল) বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু মিল মালিক আব্দুস সালাম মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা এক সপ্তাহ পালন করলেও গত আগষ্ট মাস থেকে প্রশাসনের অনুমতিপত্র, লাইসেন্স ছাড়াই পূনরায় শুরু করেছেন কাঠ ছিড়ানোর কাজ। মঙ্গলকাটা গ্রামের মোঃ রফিক মিয়ার ছেলে স-মিল মালিক আব্দুস সালাম প্রভাব কাটিয়ে স্ব গর্বে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন ,মিল মালিক আব্দুস সালামের সাথে চোরাকারবারিদের যোগসাজশ থাকায় চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মেহগুনী,শিলকড়ই,আকাশীসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ এনে সমিলে রাখেন। এখনো মিলের চর্তুরদিকে শত শত গাছ রেখা আছে। অনুমতিপত্র ছাড়াই আব্দুস সালাম আবারো পুরোদমে কাঠ ছিড়ানোর কাজ শুরু করায় জনমনে নানান প্রশ্নে জন্ম দিয়েছে। মিল মালিক ও তিনজন শ্রমিক কাঠ ছিড়নোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ছটকে পড়েন মিল মালিক আব্দুস সালাম এবং সাথে সাথেই শ্রমিকরা মিলে কাঠ ছিড়নো বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে রাস্তার পাশে মিলটি স্থাপন করায় সাধারণ পথচারী ও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ধূলোবালি ও শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হলেও তারাও যেন নিরুপায়। এ ব্যাপারে মিল মালিক আব্দুস সালাম মোট ফোনের মাধ্যমে মিল চালো রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,”মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধভাবে কাঠ ছিড়ানোর কাজ করছেন।” সামনাসামনি এসে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকরা আপনারা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে”। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন(ডিআর) উক্ত করাত মিলে (স- মিলে) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,”আমরা আগামী তিন/চারদিনের মধ্যেই স-মিলটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে করাত কল সিজ করার ঘোষণা দিবো । এ ব্যপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল এই করাত কলের বিরুদ্ধে লাইসেন্স না থাকায় মোবাইল কোর্ট করে অর্থদন্ড করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করার আগ পর্যন্ত মিল চালানো বন্ধ থাকবে। কিন্তু এরপর ও যখন অবৈধভাবে মিল চালানোর হচ্ছে আমরা খুব শীঘ্রই মিলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা তিনি জানান।

Share this news as a Photo Card