০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ৮ ভরি স্বর্ণ ও লক্ষাধিক টাকা চুরি, অভিযুক্ত কিশোর মুসা

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৪:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০৬ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ পটুয়াখালী

​পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী  গ্রামের সাবেক মেম্বার মশিউর রহমান  মন্জু ঢালীর ঘরে ২২:০৪:২৬ তারিখ রাত ১২টা থেকে ২ টার ভিতরে লোহার সিক কেটে ঘরে প্রবেশ করে

অএ এলাকার আফজাল সিকদারের ছেলে  কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা মুসা (১৪) নামের এক কিশোর।

​সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো দেখে এবং জানালার শিক কাটা দেখে পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  তারা লক্ষ্য করেন যে, আলমারিতে রাখা  ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণ এবং দুই লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ অর্থ গায়েব হয়ে গেছে।

​চুরির এই ঘটনায় গ্রামবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবার একই গ্রামের কিশোর মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, মুসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিঁচকে চুরির সাথে জড়িত এবং তার চলাফেরা সন্দেহজনক।

পরবর্তী সময়ে এলাকার লোকজন মুসাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে চাপ প্রোয়োগ করলে সে সবকিছু খুলে বলতে বাধ্য হয়। মুসার কথ্যমতে সে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে ঘরের দরজা গুলো খুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে তার সহযোগী আঠার গাছিয়া ইউনিয়নের রাকিব নামের এক কিশোর অএ ঘরের সদস্যদের গভীর ঘুমে মগ্ন থাকার স্প্রে প্রয়োগ করে।

যখন অত্র ঘরের সদাস্যগন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকেন তখন

কিশোর গ্যাং এর সদস্যসহ তাহার সহযোগীরা ঘরের আলমারীর তালা মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে খুলে ফেলে।

আলমারীতে থাকা মন্জু মেম্বারের স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্নের গলার হাড়, হাতের বালা, গলার চেইন, হাতের আংটি কানের ঝুমকা সব মিলিয়ে যাহার ওজন ৮ বড়ি ও নগত ২, ৫০০০০টাকা (দুই লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার) টাকা হাতিয়ে নেন।

স্বর্নও টাকা কোথায় রাখছে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে মুসা তাদেরকে নিয়ে তাহার ঘরসহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে গেলে মিলেনি কোন টাকা বা স্বর্ন।

কিন্তু যখন ঘরে নিয়ে যায় সেখানে একটি গর্তে একটি ছুরি পাওয়া যায়।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, জানালার শিক কাটার ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি কোনো পেশাদার বা পূর্বপরিকল্পিত চুরির অংশ।

এ বিষয়ে কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা মুসার বাবা ও আপন চাচা জসিম সিকদার সহ এলাকার অনান্য ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আমাদেরকে জানান মুসা ছোটবেলা থেকেই সুপারি চুরি, ঘড় চুরি, দোকান চুরি সহ সমাজের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন।

তাহার বাবা আমাদেরকে অবগত করেন তাহার ছেলে মুসা কয়েক মাস আগে আমতলী একটি দোকান চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলে সেখানে তাকে বেধে রাখা হয়। খবর শুনে স্থানীয় মন্জু মেম্বারের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মুসার আপন চাচা স্পষ্ট ভাষায় আমাদের অবগত করেন  মুসা কিশোর গ্যাং এর সাথে জরিয়ে পরেছেন। এবং মুসার বাবাকে বলেন অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দিতে ভবিষ্যতে মুসা আর যাতে কোন চুরি বা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে না পরেন।

​ভুক্তভোগী গৃহকর্তা বলেন:”আমরা অনেক কষ্ট করে এই সম্পদগুলো জমিয়েছিলাম। মুসাকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি, সে যে এমন কাজ আমার ঘরে ও করবে তা ভাবতে পারিনি। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি।

​পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত মুসাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

​এলাকাবাসী রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
PhotoCard Icon
Create PhotoCard
28 October 2026

ভান্ডারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

https://dailyalorsomaz.com |
https://www.facebook.com

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ৮ ভরি স্বর্ণ ও লক্ষাধিক টাকা চুরি, অভিযুক্ত কিশোর মুসা

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৪:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ পটুয়াখালী

​পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী  গ্রামের সাবেক মেম্বার মশিউর রহমান  মন্জু ঢালীর ঘরে ২২:০৪:২৬ তারিখ রাত ১২টা থেকে ২ টার ভিতরে লোহার সিক কেটে ঘরে প্রবেশ করে

অএ এলাকার আফজাল সিকদারের ছেলে  কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা মুসা (১৪) নামের এক কিশোর।

​সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো দেখে এবং জানালার শিক কাটা দেখে পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  তারা লক্ষ্য করেন যে, আলমারিতে রাখা  ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণ এবং দুই লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ অর্থ গায়েব হয়ে গেছে।

​চুরির এই ঘটনায় গ্রামবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবার একই গ্রামের কিশোর মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, মুসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিঁচকে চুরির সাথে জড়িত এবং তার চলাফেরা সন্দেহজনক।

পরবর্তী সময়ে এলাকার লোকজন মুসাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে চাপ প্রোয়োগ করলে সে সবকিছু খুলে বলতে বাধ্য হয়। মুসার কথ্যমতে সে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে ঘরের দরজা গুলো খুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে তার সহযোগী আঠার গাছিয়া ইউনিয়নের রাকিব নামের এক কিশোর অএ ঘরের সদস্যদের গভীর ঘুমে মগ্ন থাকার স্প্রে প্রয়োগ করে।

যখন অত্র ঘরের সদাস্যগন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকেন তখন

কিশোর গ্যাং এর সদস্যসহ তাহার সহযোগীরা ঘরের আলমারীর তালা মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে খুলে ফেলে।

আলমারীতে থাকা মন্জু মেম্বারের স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্নের গলার হাড়, হাতের বালা, গলার চেইন, হাতের আংটি কানের ঝুমকা সব মিলিয়ে যাহার ওজন ৮ বড়ি ও নগত ২, ৫০০০০টাকা (দুই লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার) টাকা হাতিয়ে নেন।

স্বর্নও টাকা কোথায় রাখছে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে মুসা তাদেরকে নিয়ে তাহার ঘরসহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে গেলে মিলেনি কোন টাকা বা স্বর্ন।

কিন্তু যখন ঘরে নিয়ে যায় সেখানে একটি গর্তে একটি ছুরি পাওয়া যায়।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, জানালার শিক কাটার ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি কোনো পেশাদার বা পূর্বপরিকল্পিত চুরির অংশ।

এ বিষয়ে কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা মুসার বাবা ও আপন চাচা জসিম সিকদার সহ এলাকার অনান্য ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আমাদেরকে জানান মুসা ছোটবেলা থেকেই সুপারি চুরি, ঘড় চুরি, দোকান চুরি সহ সমাজের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন।

তাহার বাবা আমাদেরকে অবগত করেন তাহার ছেলে মুসা কয়েক মাস আগে আমতলী একটি দোকান চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলে সেখানে তাকে বেধে রাখা হয়। খবর শুনে স্থানীয় মন্জু মেম্বারের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মুসার আপন চাচা স্পষ্ট ভাষায় আমাদের অবগত করেন  মুসা কিশোর গ্যাং এর সাথে জরিয়ে পরেছেন। এবং মুসার বাবাকে বলেন অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দিতে ভবিষ্যতে মুসা আর যাতে কোন চুরি বা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে না পরেন।

​ভুক্তভোগী গৃহকর্তা বলেন:”আমরা অনেক কষ্ট করে এই সম্পদগুলো জমিয়েছিলাম। মুসাকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি, সে যে এমন কাজ আমার ঘরে ও করবে তা ভাবতে পারিনি। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি।

​পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত মুসাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

​এলাকাবাসী রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card