০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা: দুপুর ১টাতেই স্কুল ছুটি, শিক্ষকদের হাজিরায় চরম ফাঁকি!

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:২৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

খলিফা সাগর ​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

​পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজীর বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রতিদিন বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১০ মিনিটেই সরকারি নিয়ম অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা নামানোর ন্যূনতম বিধিমালাও এখানে মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। অনুসন্ধানের পরের দিন সকালে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও গড়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ৬ জন উপস্থিত থাকেন। বাকি শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শুধু শিক্ষকদের হাজিরাই নয়, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও এক থেকে দেড় মাস ধরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেখানে কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর বা তদারকির চিহ্ন নেই। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজী সাংবাদিকদের বলেনআমি আমার মতন শিডিউল করে শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজগুলো করিয়ে থাকি।”শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় মাসাধিকাল স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে তিনি সদর্পে বলেন, “এরকমটাইস্বাভাবিক বিষয়, তাতে কিছুই হয় না।” দুপুর ১টায় স্কুল বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং বলেন”উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে বললেও আমার কিছু হবে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে দেখে আসছি বিদ্যালয় এরকম সময়ই ছুটি হয়, তাই আমি এভাবেই বিদ্যালয় পরিচালনা করছি। পরীক্ষার সময় ৪৫ মিনিট থাকলে আমি ছুটি দেব না তো কী করব?” সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজের অনিয়ম ঢাকতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। তবে বর্তমান সুশাসনের সময়েও কেন তিনি একই অনিয়ম করে যাচ্ছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি চিকনিকান্দী ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এই পরিচয় দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক বশির কাজী ক্ষমতার জোরে কারও কোনো তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার এবং গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

নরসিংদীর শিবপুরে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ফল উৎসব

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
13 July 2026

বড়দিঘীর পাড়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক জনপদ বিভাগের যৌথ অভিযান।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

গলাচিপায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা: দুপুর ১টাতেই স্কুল ছুটি, শিক্ষকদের হাজিরায় চরম ফাঁকি!

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:২৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

খলিফা সাগর ​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

​পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজীর বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রতিদিন বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১০ মিনিটেই সরকারি নিয়ম অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা নামানোর ন্যূনতম বিধিমালাও এখানে মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। অনুসন্ধানের পরের দিন সকালে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও গড়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ৬ জন উপস্থিত থাকেন। বাকি শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শুধু শিক্ষকদের হাজিরাই নয়, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও এক থেকে দেড় মাস ধরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেখানে কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর বা তদারকির চিহ্ন নেই। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বশির কাজী সাংবাদিকদের বলেনআমি আমার মতন শিডিউল করে শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজগুলো করিয়ে থাকি।”শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় মাসাধিকাল স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে তিনি সদর্পে বলেন, “এরকমটাইস্বাভাবিক বিষয়, তাতে কিছুই হয় না।” দুপুর ১টায় স্কুল বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং বলেন”উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে বললেও আমার কিছু হবে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে দেখে আসছি বিদ্যালয় এরকম সময়ই ছুটি হয়, তাই আমি এভাবেই বিদ্যালয় পরিচালনা করছি। পরীক্ষার সময় ৪৫ মিনিট থাকলে আমি ছুটি দেব না তো কী করব?” সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজের অনিয়ম ঢাকতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। তবে বর্তমান সুশাসনের সময়েও কেন তিনি একই অনিয়ম করে যাচ্ছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি চিকনিকান্দী ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এই পরিচয় দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক বশির কাজী ক্ষমতার জোরে কারও কোনো তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার এবং গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card