০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাতকে এক রাতেই শেষ হুশিয়ার আলীর স্বপ্ন—বিষে প্রাণ গেল ১৫০০ মোরগ, ক্ষতি ছাড়াল ৩.৫ লাক টাকার মত।

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৩৩৩ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: 

সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় ১২০০ মোরগ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খামার মালিকের আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী খামার মালিক মোঃ হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি ছাতক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুশিয়ার আলী তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০০০টি বাউন কক জাতের মোরগ নিয়ে খামার পরিচালনা করছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি খামার পরিদর্শনের পর ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে তিনি দেখতে পান প্রায় ১২০০টি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তার দাবি অনুযায়ী, এতে তার প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জায়গা-জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুর মোঃ আবুল মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষ প্রয়োগ করে মোরগগুলো মারা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার স্ত্রী বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি সত্য হতে পারে বলে আমি মনে করি।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জামাইকে এই জায়গার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” একই ধরনের বক্তব্য তার ছেলে ও মেয়েও প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে বক্তব্য গ্রহণের জন্য সাংবাদিকরা অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, “খামারটি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে ১২০০ থেকে ১৫০০ মোরগ মারা যাওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলব।

সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” এদিকে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সচিব-উদ্যোক্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য: অতিরিক্ত ফি আদায়ে দিশেহারা সেবাগ্রহীতারা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
14 September 2026

দেবিদ্বারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাশেমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

ছাতকে এক রাতেই শেষ হুশিয়ার আলীর স্বপ্ন—বিষে প্রাণ গেল ১৫০০ মোরগ, ক্ষতি ছাড়াল ৩.৫ লাক টাকার মত।

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: 

সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় ১২০০ মোরগ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খামার মালিকের আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী খামার মালিক মোঃ হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি ছাতক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুশিয়ার আলী তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০০০টি বাউন কক জাতের মোরগ নিয়ে খামার পরিচালনা করছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি খামার পরিদর্শনের পর ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে তিনি দেখতে পান প্রায় ১২০০টি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তার দাবি অনুযায়ী, এতে তার প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জায়গা-জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুর মোঃ আবুল মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষ প্রয়োগ করে মোরগগুলো মারা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার স্ত্রী বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি সত্য হতে পারে বলে আমি মনে করি।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জামাইকে এই জায়গার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” একই ধরনের বক্তব্য তার ছেলে ও মেয়েও প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে বক্তব্য গ্রহণের জন্য সাংবাদিকরা অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, “খামারটি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে ১২০০ থেকে ১৫০০ মোরগ মারা যাওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলব।

সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” এদিকে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card