০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারের ৩ ‘ইউপি সচিবের দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও অদৃশ্য ক্ষমতায় বহাল তবিয়তে!

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩২৪ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

​এম‌ এ হাসান ক্রাইম রিপোর্টার, ঢাকা

​ঢাকার সাভারের জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ আশুলিয়া থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দুর্নীতির এক নৈরাজ্যকর রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বিশেষ করে ইয়ারপুর, বনগাঁও ও পাথালিয়া এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যথাক্রমে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ এবং মীর আব্দুল বারেক-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন অদৃশ্য দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে তাদের এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সচিত্র ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হলেও, অজ্ঞাত কোনো খুঁটির জোরে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই তিন ‘মাফিয়া’ খ্যাত সচিব। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় স্থানীয় ভুক্তভোগীদের জোরালো অভিযোগ, এই তিন ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ সরকারি যেকোনো সেবা নিতে গেলেই সচিবদের ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটকে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। সরকারের নির্ধারিত ফি ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াটাই তাদের প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষের টাকা না দিলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাসের পর মাস দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। ফলে প্রতিনিয়ت চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নগুলোর লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। ​দুর্নীতির সিন্ডিকেট ও ভুয়া ভাউচারের রাজত্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, স্ব স্ব ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের সাথে গোপন সখ্য গড়ে তুলে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন এই তিন সচিব। পরিষদে অনিয়মই যেন তাদের প্রধান নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ তাদের আড়ালে ভালোবেসে নয়, বরং ক্ষোভের বশে ‘ইউপি মাফিয়া’ বলে সম্বোধন করেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, তবুও নির্বিকার প্রশাসন সবচেয়ে বিস্ময়কর ও হতাশাজনক বিষয় হলো, এই দুর্নীতিবাজ সচিবদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ইতিপূর্বে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বারবার সংবাদ প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ আশাবাদী হয়েছিল যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন এই তিন সচিব। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকরী তদন্ত কমিটি গঠন বা কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আর এ কারণেই তাদের দুর্নীতির মাত্রা দিন দিন আরও অপ্রতিরোধ্য ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ​ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর আকুতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়ারপুর, বনগাঁও ও পাথালিয়া ইউনিয়নের একাধিক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা হতাশা প্রকাশ করে জানান: আমরা এক প্রকার এই সচিবদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। কাগজ-পত্র সব ঠিক থাকার পরও টাকা না দিলে কোনো ফাইলেই তাদের সই হয় না। পত্রিকায় এত নিউজ হলো, তবুও তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছোঁয়া গেল না। আমরা আসলে কার কাছে বিচার চাইব, কার কাছেই বা নিরাপদ?” বারবার তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পরও এমন দুর্নীতিপরায়ণ সচিবদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ এলাকাবাসীর জোর দাবি, অতি দ্রুত এই দুর্নীতিগ্রস্ত ইউপি সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ এবং মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দ্রুত অপসারণ করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্ভোগ চিরতরে বন্ধ করা হোক। অভিযুক্তদের বক্তব্য ​এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, বনগাঁও ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং পাথালিয়া ইউপি সচিব মীর আব্দুল বারেকের প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থান জানতে তাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
PhotoCard Icon
Create PhotoCard
28 October 2026

ভান্ডারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

https://dailyalorsomaz.com |
https://www.facebook.com

সাভারের ৩ ‘ইউপি সচিবের দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও অদৃশ্য ক্ষমতায় বহাল তবিয়তে!

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

​এম‌ এ হাসান ক্রাইম রিপোর্টার, ঢাকা

​ঢাকার সাভারের জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ আশুলিয়া থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দুর্নীতির এক নৈরাজ্যকর রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বিশেষ করে ইয়ারপুর, বনগাঁও ও পাথালিয়া এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যথাক্রমে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ এবং মীর আব্দুল বারেক-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন অদৃশ্য দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে তাদের এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সচিত্র ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হলেও, অজ্ঞাত কোনো খুঁটির জোরে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই তিন ‘মাফিয়া’ খ্যাত সচিব। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় স্থানীয় ভুক্তভোগীদের জোরালো অভিযোগ, এই তিন ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ সরকারি যেকোনো সেবা নিতে গেলেই সচিবদের ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটকে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। সরকারের নির্ধারিত ফি ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াটাই তাদের প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষের টাকা না দিলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাসের পর মাস দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। ফলে প্রতিনিয়ت চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নগুলোর লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। ​দুর্নীতির সিন্ডিকেট ও ভুয়া ভাউচারের রাজত্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, স্ব স্ব ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের সাথে গোপন সখ্য গড়ে তুলে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন এই তিন সচিব। পরিষদে অনিয়মই যেন তাদের প্রধান নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ তাদের আড়ালে ভালোবেসে নয়, বরং ক্ষোভের বশে ‘ইউপি মাফিয়া’ বলে সম্বোধন করেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, তবুও নির্বিকার প্রশাসন সবচেয়ে বিস্ময়কর ও হতাশাজনক বিষয় হলো, এই দুর্নীতিবাজ সচিবদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে ইতিপূর্বে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বারবার সংবাদ প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ আশাবাদী হয়েছিল যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন এই তিন সচিব। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকরী তদন্ত কমিটি গঠন বা কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আর এ কারণেই তাদের দুর্নীতির মাত্রা দিন দিন আরও অপ্রতিরোধ্য ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ​ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর আকুতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়ারপুর, বনগাঁও ও পাথালিয়া ইউনিয়নের একাধিক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা হতাশা প্রকাশ করে জানান: আমরা এক প্রকার এই সচিবদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। কাগজ-পত্র সব ঠিক থাকার পরও টাকা না দিলে কোনো ফাইলেই তাদের সই হয় না। পত্রিকায় এত নিউজ হলো, তবুও তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছোঁয়া গেল না। আমরা আসলে কার কাছে বিচার চাইব, কার কাছেই বা নিরাপদ?” বারবার তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পরও এমন দুর্নীতিপরায়ণ সচিবদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ এলাকাবাসীর জোর দাবি, অতি দ্রুত এই দুর্নীতিগ্রস্ত ইউপি সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ এবং মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দ্রুত অপসারণ করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্ভোগ চিরতরে বন্ধ করা হোক। অভিযুক্তদের বক্তব্য ​এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, বনগাঁও ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং পাথালিয়া ইউপি সচিব মীর আব্দুল বারেকের প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থান জানতে তাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি

Share this news as a Photo Card