০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমধুমে এলজিইডির রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদার বক্করের অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়,টনক নড়ছেনা কর্তৃপক্ষের”।

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৮:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬০ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি) (শাহাদাত হোসেন বাপ্পি) 

বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশপাড়িতে এলজিইডি’র সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতি যেন থামছেই না। তুমব্রু সীমান্ত সড়ক থেকে রেজু আমতলি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার আবুবক্করের বিরুদ্ধ।

এসব অভিযোগ জানা সত্বেও নাইক্ষংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের নিরবতায় জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এবং ক্ষুব্ধ এলাকা বাসী এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধ যেকোন মুহুর্তে মানববন্ধন করতে পারে বলেও এই প্রতিবেদককে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে সড়কের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছেনা উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের।

গত ১২ এপ্রিল উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি টিম ও ১৪ই এপ্রিল আবারও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এলজিইডির অফিস পরিদর্শনে আসলেও ঠিকাদার বক্করের অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারায় জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

প্রতিদিন কোন না কোন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন আসলে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মহানায়ক ঠিকাদার বক্কর নাকি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম।

বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) সরেজমিন এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সড়কে গেলে স্থানীয়দের দাবী সড়কে বালির পরিবর্তনে পাহাড়ি মাঠি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার বক্কর। নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের এসব খোয়া ও বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে উক্ত সড়কে।জানা গেছে,এলজিডির অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করছে না।

সড়ক নির্মাণের জন্য যেখানে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের কথা, সেখানে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসীস্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালির পরিবর্তে সরাসরি পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও টেকসই সড়ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসী আরও জানান, কাজের তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় মানসম্মতভাবে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কাজের মান নিশ্চিত করা হোক।ঠিকাদার আবুবক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নাই।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আমরাও শুনেছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব ঠিকাদাররা উঠেপড়ে লেগেছে মনে হচ্ছে।

আমি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।এ বিষয়ে নাইক্ষংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা পাওয়ায় আমি বক্করকে দুই দুই বার চিঠি দিয়েছি।এবং অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে নির্দেশনা দিয়েছি।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

পরকীয়ার জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
13 June 2026

পটুয়াখালী ভার্সিটির, নবনিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ এর অভিনন্দন।।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com

ঘুমধুমে এলজিইডির রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদার বক্করের অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়,টনক নড়ছেনা কর্তৃপক্ষের”।

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৮:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি) (শাহাদাত হোসেন বাপ্পি) 

বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশপাড়িতে এলজিইডি’র সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতি যেন থামছেই না। তুমব্রু সীমান্ত সড়ক থেকে রেজু আমতলি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার আবুবক্করের বিরুদ্ধ।

এসব অভিযোগ জানা সত্বেও নাইক্ষংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের নিরবতায় জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এবং ক্ষুব্ধ এলাকা বাসী এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধ যেকোন মুহুর্তে মানববন্ধন করতে পারে বলেও এই প্রতিবেদককে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে সড়কের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছেনা উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের।

গত ১২ এপ্রিল উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি টিম ও ১৪ই এপ্রিল আবারও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এলজিইডির অফিস পরিদর্শনে আসলেও ঠিকাদার বক্করের অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারায় জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

প্রতিদিন কোন না কোন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন আসলে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মহানায়ক ঠিকাদার বক্কর নাকি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম।

বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) সরেজমিন এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সড়কে গেলে স্থানীয়দের দাবী সড়কে বালির পরিবর্তনে পাহাড়ি মাঠি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার বক্কর। নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের এসব খোয়া ও বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে উক্ত সড়কে।জানা গেছে,এলজিডির অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করছে না।

সড়ক নির্মাণের জন্য যেখানে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের কথা, সেখানে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসীস্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালির পরিবর্তে সরাসরি পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও টেকসই সড়ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসী আরও জানান, কাজের তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় মানসম্মতভাবে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কাজের মান নিশ্চিত করা হোক।ঠিকাদার আবুবক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নাই।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আমরাও শুনেছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব ঠিকাদাররা উঠেপড়ে লেগেছে মনে হচ্ছে।

আমি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।এ বিষয়ে নাইক্ষংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা পাওয়ায় আমি বক্করকে দুই দুই বার চিঠি দিয়েছি।এবং অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে নির্দেশনা দিয়েছি।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card