নিজস্ব প্রতিবেদক।
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বর্তমানে একটি সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও এখানে মাদকের অবাধ বেচাকেনা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নুরনবী (২৯) ও তার স্ত্রী নিপা বেগম (২৬) দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন। একাধিক মামলা ও বারবার কারাবরণের ইতিহাস থাকলেও, প্রতিবার জামিনে মুক্ত হয়ে তারা পুনরায় আরও সংগঠিতভাবে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় উদ্যান এলাকায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নুরনবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এবং শাহবাগ থানা-এ দায়ের করা মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন নিপা বেগম, যিনি পুরো ব্যবসার অর্থের যোগান ও হিসাব পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ এলাকার আমিনুল ইসলাম মোল্লা (৩২) এই চক্রকে গাঁজার পাইকারি সরবরাহ দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাঠপর্যায়ে মাদক বিক্রির জন্য ১৫-২০ জনের একটি সক্রিয় দল কাজ করছে, যারা নিয়মিতভাবে মাদক সরবরাহ ও অর্থের জোগান পাচ্ছে এই দম্পতির কাছ থেকে। এই চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের দাবি, বারবার গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে নবী-নিপা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং উদ্যানের পরিবেশ ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কখনোই মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ফিরে আসবে না। বর্তমানে এই পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সচেতন
Reporter Name 















