১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ঈদুল আজহার চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ: আউলিয়াপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৭ Time View
১৫

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১১ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকৃত কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে নিজেদের সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বস্তা ভরে চাল ভাগাভাগি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে মোট ১,৩৩৭ জন দুস্থ মানুষের নামে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। তবে অভিযোগ ওঠে, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ছালাম এবং ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ভুট্টুসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা প্রকৃত গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে চাল আত্মসাৎ করেছেন এবং সচ্ছল স্বজনদের মাঝে তা বিতরণ করেছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। সেখানে মাস্টার রোল (চাল প্রাপ্তির তালিকা) অনুযায়ী সঠিক বণ্টন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বক্তব্যে চরম গরমিল দেখা দেয়। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ছালাম দাবি করেন, মাত্র ৮ জনের চাল বিতরণ বাকি আছে। অন্যদিকে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুট্টু দাবি করেন, ১৫ জনের চাল বাকি রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের বক্তব্যের এই অমিলের পর পরিষদের গোডাউন তল্লাশি করতে চাইলে দেখা যায় গোডাউনটি তালাবদ্ধ। পরবর্তীতে তালা খোলার পর ভেতরে ৩০ কেজি ওজনের মাত্র ৬ বস্তা (১৮০ কেজি) চাল পাওয়া যায়, যা তাদের দাবিকৃত হিসাবের চেয়ে অনেক কম। সাজানো লোক দিয়ে টিপসই ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও: ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে ইউপি সদস্য মুঠোফোনের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে কিছু সাজানো লোককে চাল নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনেন। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে পরিষদের সচিব মাস্টার রোলে টিপসই দিয়ে চাল নিতে বলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি টিপসই দেওয়ার আগেই ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুট্টু নিজেই ওই টিপসইয়ের ওপর জোরপূর্বক আঙুলের ছাপ (টিপ) দিয়ে চাল পার করার চেষ্টা করেন। ডিজিটাল যুগে এমন অনিয়ম সরাসরি গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় ও নজরে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইউপি সদস্য ভুট্টু। তিনি সত্য লুকাতে উল্টো উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং অত্যন্ত আপত্তিকর ও খারাপ আচরণ করেন। এ ঘটনায় আউলিয়াপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গরিব মানুষরা এই চাল কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দুর্নীতির অভিযোগ: সদস্য সচিব মহাসীন মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

​ঈদুল আজহার চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ: আউলিয়াপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে।

Update Time : ০৩:০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
১৫

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১১ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকৃত কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে নিজেদের সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বস্তা ভরে চাল ভাগাভাগি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে মোট ১,৩৩৭ জন দুস্থ মানুষের নামে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। তবে অভিযোগ ওঠে, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ছালাম এবং ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ভুট্টুসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা প্রকৃত গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে চাল আত্মসাৎ করেছেন এবং সচ্ছল স্বজনদের মাঝে তা বিতরণ করেছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। সেখানে মাস্টার রোল (চাল প্রাপ্তির তালিকা) অনুযায়ী সঠিক বণ্টন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বক্তব্যে চরম গরমিল দেখা দেয়। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ছালাম দাবি করেন, মাত্র ৮ জনের চাল বিতরণ বাকি আছে। অন্যদিকে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুট্টু দাবি করেন, ১৫ জনের চাল বাকি রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের বক্তব্যের এই অমিলের পর পরিষদের গোডাউন তল্লাশি করতে চাইলে দেখা যায় গোডাউনটি তালাবদ্ধ। পরবর্তীতে তালা খোলার পর ভেতরে ৩০ কেজি ওজনের মাত্র ৬ বস্তা (১৮০ কেজি) চাল পাওয়া যায়, যা তাদের দাবিকৃত হিসাবের চেয়ে অনেক কম। সাজানো লোক দিয়ে টিপসই ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও: ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে ইউপি সদস্য মুঠোফোনের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে কিছু সাজানো লোককে চাল নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনেন। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে পরিষদের সচিব মাস্টার রোলে টিপসই দিয়ে চাল নিতে বলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি টিপসই দেওয়ার আগেই ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুট্টু নিজেই ওই টিপসইয়ের ওপর জোরপূর্বক আঙুলের ছাপ (টিপ) দিয়ে চাল পার করার চেষ্টা করেন। ডিজিটাল যুগে এমন অনিয়ম সরাসরি গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় ও নজরে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইউপি সদস্য ভুট্টু। তিনি সত্য লুকাতে উল্টো উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং অত্যন্ত আপত্তিকর ও খারাপ আচরণ করেন। এ ঘটনায় আউলিয়াপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গরিব মানুষরা এই চাল কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।