০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভা‌বের তা‌ড়ে দুই অবুঝ স‌ন্তানকে রে‌খে গৃহবধূর আত্মহনন: পাশে কেবল বাকরুদ্ধ স্বামী, অনুপস্থিত স্বজনরা

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১১:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২১ সম্পাদক ও প্রকাশক

খলিফা সাগর :: নিজস্ব প্রতিবেদক। আমতলী (বরগুনা):

স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বামী। পাশে অবুঝ দুটি শিশুসন্তান, কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তে পাশে নেই বাপের বাড়ির বা শশুড়বাড়ির কোনো আত্মীয়-স্বজন। এক চরম একাকীত্ব আর শোকে বাকরুদ্ধ স্বামী আজ কেবলই জিজ্ঞেস করছেন—কী অপরাধ ছিল তাদের? ঘটনাটি বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের। গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) আনুমানিক দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে অভাব-অনটনের টানাফোড়নে বাধ্য হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সানজিদা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রসারিবুনিয়া গ্রামের মোঃ আবু বক্কর তালুকদারের মেয়ে এবং গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের উজ্জ্বল তালুকদারের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিতে তীব্র অভাব-অনটন চলছিল। টানাটানির সংসার চালাতে গিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন সানজিদা। অবশেষে ৩ বছরের এক মেয়ে এবং মাত্র দেড় বছরের এক ছেলেকে রেখে মৃত্যুর পথ বেছে নেন এই তরুণী গৃহবধূ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। রাত্রিকালীন সময়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে একাকী বসে থাকা স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই, আজ আমি বড্ড একা। আপনারা সবাই দেখুন, আমার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে আছে অথচ পাশে আমি ছাড়া কেউ নেই। জানি না আমি আর আমার স্ত্রী কী এমন ভুল করেছিলাম! এই রাতে আমার শ্বশুরবাড়ির একটি মানুষও পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আমার সঙ্গিনী আমাকে এবং ৩ বছর ও দেড় বছরের দুই অবুঝ সন্তানকে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল।” পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেমের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একজন সম্ভাবনাময় তরুণীর এই করুণ বিদায় এবং অবুঝ দুটি শিশুর মাতৃহীন হয়ে পড়া এলাকায় গভীর বিষাদের জন্ম দিয়েছে।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

অভা‌বের তা‌ড়ে দুই অবুঝ স‌ন্তানকে রে‌খে গৃহবধূর আত্মহনন: পাশে কেবল বাকরুদ্ধ স্বামী, অনুপস্থিত স্বজনরা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
24 July 2026

​স্বাধীনতার পর ৫৭ বছরে দেশে সংঘটিত ৪৩ জন পেশাদার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডসহ আহত ও নির্যাতিত

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

অভা‌বের তা‌ড়ে দুই অবুঝ স‌ন্তানকে রে‌খে গৃহবধূর আত্মহনন: পাশে কেবল বাকরুদ্ধ স্বামী, অনুপস্থিত স্বজনরা

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১১:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

খলিফা সাগর :: নিজস্ব প্রতিবেদক। আমতলী (বরগুনা):

স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বামী। পাশে অবুঝ দুটি শিশুসন্তান, কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তে পাশে নেই বাপের বাড়ির বা শশুড়বাড়ির কোনো আত্মীয়-স্বজন। এক চরম একাকীত্ব আর শোকে বাকরুদ্ধ স্বামী আজ কেবলই জিজ্ঞেস করছেন—কী অপরাধ ছিল তাদের? ঘটনাটি বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের। গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) আনুমানিক দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে অভাব-অনটনের টানাফোড়নে বাধ্য হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সানজিদা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রসারিবুনিয়া গ্রামের মোঃ আবু বক্কর তালুকদারের মেয়ে এবং গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামের উজ্জ্বল তালুকদারের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিতে তীব্র অভাব-অনটন চলছিল। টানাটানির সংসার চালাতে গিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন সানজিদা। অবশেষে ৩ বছরের এক মেয়ে এবং মাত্র দেড় বছরের এক ছেলেকে রেখে মৃত্যুর পথ বেছে নেন এই তরুণী গৃহবধূ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো গেরাবুনিয়া আলগি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। রাত্রিকালীন সময়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে একাকী বসে থাকা স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই, আজ আমি বড্ড একা। আপনারা সবাই দেখুন, আমার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে আছে অথচ পাশে আমি ছাড়া কেউ নেই। জানি না আমি আর আমার স্ত্রী কী এমন ভুল করেছিলাম! এই রাতে আমার শ্বশুরবাড়ির একটি মানুষও পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আমার সঙ্গিনী আমাকে এবং ৩ বছর ও দেড় বছরের দুই অবুঝ সন্তানকে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল।” পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেমের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একজন সম্ভাবনাময় তরুণীর এই করুণ বিদায় এবং অবুঝ দুটি শিশুর মাতৃহীন হয়ে পড়া এলাকায় গভীর বিষাদের জন্ম দিয়েছে।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card