হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। দিন দিন অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বহু পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ধারী এটিএম সালাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে নবীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, মাধবপুর ও ঢাকা থেকে বিকাশ ও নগদ এজেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব লেনদেনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অনলাইন ক্যাসিনো চক্র গড়ে উঠেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নবীগঞ্জ সদর ছাড়াও ইমামবাড়ি বাজার, আউশকান্দি, টুকের বাজার, কাজিরবাজার এবং পানিউমদা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন জুয়ার এই নেটওয়ার্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে তাদের মোবাইলে বিভিন্ন বেটিং অ্যাপ ইনস্টল করে দেওয়া হয়। শুরুতে অল্প টাকার প্রলোভন দেখিয়ে খেলায় যুক্ত করা হলেও পরে তারা ভয়াবহ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকদের মতে, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের অজান্তে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছে। কেউ পড়াশোনার খরচ, আবার কেউ পরিবারের অর্থ জুয়ার পেছনে ব্যয় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরা বলছেন, অনলাইন জুয়া এখন মাদকের চেয়েও ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা হয়ে উঠেছে। কারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই এটি পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় তরুণদের সহজেই আকৃষ্ট করছে। এর ফলে একদিকে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে মামলা, হয়রানি কিংবা প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো হয়। ফলে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারও প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 











