০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে আদালতের আদেশ তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে জমি দখল পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ​বাউফল।

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ৮৬ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতারাতি পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয় সালিশ-মীমাংসা উপেক্ষা করে ‘ভূমিদস্যু’ সবুজ ও তার শ্বশুর দুলাল শিকদারের নেতৃত্বে এই দখলযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। ​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমির প্রকৃত মালিক আবুল হোসেন এবং তার ১২ ভাই-বোন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী সবুজ এবং তার শ্বশুর দুলাল শিকদার ওই জমিতে জোরপূর্বক বসতভিটা ও পাকা দালান নির্মাণের চেষ্টা চালান।​আবুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালত উক্ত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে, গত কয়েকদিনের মধ্যে রাতারাতি ওই জমিতে অবৈধ পাকা দালান গড়ে তোলে সবুজ ও দুলাল শিকদারের বাহিনী।​ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সবুজ ও দুলাল শিকদার কোনো আইন-কানুন মানছে না। আমরা বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আদালতের আদেশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কোনো সালিশ বৈঠকও তারা মানতে নারাজ। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”​এই ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই নয়, ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসীও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কারো তোয়াক্কা করে না। প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতের আঁধারে যেভাবে অন্যের জমি দখল করে পাকা ভবন তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ​এই ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে এবং পৈতৃক জমি সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবুল হোসেনের পরিবার ও শিবপুর গ্রামবাসী। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।​ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সবুজ ও দুলাল শিকদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।​ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে তাদের পৈতৃক জমি উদ্ধার এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

ময়মনসিংহ এলজিইডি কার্যালয়ে ৩% কমিশন বাণিজ্যের তিন মাসেও তদন্ত হয়নি

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
30 July 2026

অভা‌বের তা‌ড়ে দুই অবুঝ স‌ন্তানকে রে‌খে গৃহবধূর আত্মহনন: পাশে কেবল বাকরুদ্ধ স্বামী, অনুপস্থিত স্বজনরা

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

বাউফলে আদালতের আদেশ তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে জমি দখল পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ​বাউফল।

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৫:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

 

(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতারাতি পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয় সালিশ-মীমাংসা উপেক্ষা করে ‘ভূমিদস্যু’ সবুজ ও তার শ্বশুর দুলাল শিকদারের নেতৃত্বে এই দখলযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। ​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমির প্রকৃত মালিক আবুল হোসেন এবং তার ১২ ভাই-বোন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী সবুজ এবং তার শ্বশুর দুলাল শিকদার ওই জমিতে জোরপূর্বক বসতভিটা ও পাকা দালান নির্মাণের চেষ্টা চালান।​আবুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালত উক্ত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে, গত কয়েকদিনের মধ্যে রাতারাতি ওই জমিতে অবৈধ পাকা দালান গড়ে তোলে সবুজ ও দুলাল শিকদারের বাহিনী।​ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সবুজ ও দুলাল শিকদার কোনো আইন-কানুন মানছে না। আমরা বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আদালতের আদেশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কোনো সালিশ বৈঠকও তারা মানতে নারাজ। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”​এই ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই নয়, ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসীও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কারো তোয়াক্কা করে না। প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতের আঁধারে যেভাবে অন্যের জমি দখল করে পাকা ভবন তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ​এই ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে এবং পৈতৃক জমি সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবুল হোসেনের পরিবার ও শিবপুর গ্রামবাসী। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।​ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সবুজ ও দুলাল শিকদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।​ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে তাদের পৈতৃক জমি উদ্ধার এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com Save as PDF

Share this news as a Photo Card