১০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রি ও উদ্ধার করতে যাওয়া যুবকের: পটুয়াখালীতে শোকের ছায়া

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৪:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৯০ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীতে একটি নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং (ছাদ) খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক রাজমিস্ত্রি ও তাকে বাঁচাতে যাওয়া এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চৌদ্দভুরিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ​নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি জাফর এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিবেশী যুবক নুহু। মাত্র ১৭ দিন আগে বিয়ে করা নুহুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দভুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল সিকদার আজ থেকে প্রায় ৩ মাস আগে তার ঘরের দক্ষিণ পাশে একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সকালে ওই ট্যাংকের ভেতরের সেন্টারিং বা কাঠের ছাদ খোলার কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে রাজমিস্ত্রি জাফর ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিস্তিরির  ছেলে। জাফর ভেতরে নামার কিছুক্ষণ পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী যুবক নুহু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং জাফরকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্যাংকের ভেতরে নেমে যান। ভেতরে নেমে নুহু অচেতন হয়ে পড়া রাজমিস্ত্রি জাফরকে রশি দিয়ে বেঁধে ওপরে পাঠাতে সক্ষম হলেও, বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় নিজে আর ওপরে উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত পানিতে পড়ে তলিয়ে যান। ​পরবর্তীতে স্থানীয়রা ট্যাংক থেকে নুহু ও জাফরকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগের হাসিখুশি পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। একই সাথে দুই প্রতিবেশীর এমন অকাল ও করুণ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এলাকায় এখন শুধুই কান্নার রোল আর মাতম। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং ভেতরে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস আছে কি না তা পরীক্ষা না করেই নামার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটু অসচেতনতার কারণেই আজ দুটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

নেপালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ছওয়াব ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পন্ন।

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
13 September 2026

ধামইরহাটে ডেংগু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিছন্নতার অভিযান।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রি ও উদ্ধার করতে যাওয়া যুবকের: পটুয়াখালীতে শোকের ছায়া

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৪:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীতে একটি নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং (ছাদ) খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক রাজমিস্ত্রি ও তাকে বাঁচাতে যাওয়া এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চৌদ্দভুরিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ​নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি জাফর এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিবেশী যুবক নুহু। মাত্র ১৭ দিন আগে বিয়ে করা নুহুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দভুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল সিকদার আজ থেকে প্রায় ৩ মাস আগে তার ঘরের দক্ষিণ পাশে একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সকালে ওই ট্যাংকের ভেতরের সেন্টারিং বা কাঠের ছাদ খোলার কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে রাজমিস্ত্রি জাফর ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিস্তিরির  ছেলে। জাফর ভেতরে নামার কিছুক্ষণ পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী যুবক নুহু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং জাফরকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্যাংকের ভেতরে নেমে যান। ভেতরে নেমে নুহু অচেতন হয়ে পড়া রাজমিস্ত্রি জাফরকে রশি দিয়ে বেঁধে ওপরে পাঠাতে সক্ষম হলেও, বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় নিজে আর ওপরে উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত পানিতে পড়ে তলিয়ে যান। ​পরবর্তীতে স্থানীয়রা ট্যাংক থেকে নুহু ও জাফরকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগের হাসিখুশি পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। একই সাথে দুই প্রতিবেশীর এমন অকাল ও করুণ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এলাকায় এখন শুধুই কান্নার রোল আর মাতম। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং ভেতরে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস আছে কি না তা পরীক্ষা না করেই নামার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটু অসচেতনতার কারণেই আজ দুটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।

Share this news as a Photo Card