
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৈতৃক সম্পত্তিতে মাটি ভরাটের কাজে বেআইনি বাধা প্রদান, শ্রমিকদের ওপর হামলা, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান ও দেবিদ্বার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম (৭০) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসাইন জনি (সাংবাদিক জনি ফারুক) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংযুক্ত নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌরসভার অন্তর্গত মৌজায় সরকারি খতিয়ান ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ভুক্তভোগী ফারুক হোসাইনের সর্বমোট জমি ১৪.২৬ শতক হলেও সরেজমিনে পরিমাপকৃত ১৩ শতক পাওয়া যায়। উক্ত সম্পত্তির সমুদয় সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধিত এবং সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র তাঁর অনুকূলে হালনাগাদ রয়েছে। সম্প্রতি পাশের জমিতে যাতে মাটি ধসে না পড়ে, সে জন্য নিজস্ব খরচে ড্রাম কেটে ও বাঁশ দিয়ে সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। নদী থেকে ড্রেজার বা বোটের মাধ্যমে পাইপ দিয়ে বালি এনে জমি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ও তাঁর সহযোগীরা পাইপ নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসাইন জনি জানান, আমার বৈধ ও পৈতৃক জমিতে মাটি ফালানোর কাজ চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বেআইনিভাবে লেবারদের ওপর চড়াও হন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং কাজ আটকে দেন। অন্যায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদ করায় তিনি চরম উত্তেজিত হয়ে আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে পাইপ বসাতে এবং কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে মাটি ফেলতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তাঁর আচরণ বদলায়নি। অতীতে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে দেবিদ্বারের কাঁচাবাজার ও মাছবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং সড়ক ও জনপথের (সওজ) সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে দখলদারি ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন ঝোপ বুঝে গা-ঢাকা দেওয়া কিংবা অপরাধের দায়ে কারাগারে থাকার কথা ছিল, তখনো প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী দোসর সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম। তার এই অবাধ বিচরণে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে রয়েছে এলাকার ভুক্তভোগী মহল। বিগত সময়ে তার নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া মজলুম মানুষেরা এখনো সুবিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে, কোনো রকম শিথিলতা না দেখিয়ে এই চিহ্নিত ব্যক্তিকে দ্রুত আইন ও বিচারের আওতায় আনা হোক, যাতে স্থানীয় নিপীড়িত সাধারণ জনগণ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। এই বিবাদীর পেশিশক্তি ও অন্যায় বাধার মুখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইউএনও-র কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে মাটি ভরাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মো. ফারুক হোসাইন জনির লিখিত অভিযোগটি হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন স্থানীয় মহল।
Reporter Name 














