০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সচিব-উদ্যোক্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য: অতিরিক্ত ফি আদায়ে দিশেহারা সেবাগ্রহীতারা

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮৭ সম্পাদক ও প্রকাশক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীরের

সাভারের আশুলিয়াইউনিয়ন পরিষদ এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নাগরিক সেবা নিতে এসে পদে পদে ভোগান্তি ও নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিষদ সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডল ও উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে প্রকাশ্য ঘুষ ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এমনকি সংবাদ প্রকাশের খবর পেয়ে সাংবাদিককে ‘খরচা’ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টাও চালিয়েছেন অভিযুক্ত উদ্যোক্তা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদের মতো মৌলিক সেবা পেতে সরকার নির্ধারিত ফির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ, এমনকি চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কিংবা নির্দিষ্ট দালাল চক্রের শরণাপন্ন না হলে ফাইল আটকে রেখে মাসের পর মাস ঘোরানো হয় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক এই অর্থ সংগ্রহের কাজে পরিষদের কিছু গ্রাম পুলিশকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এই সিন্ডিকেট। ​ভুক্তভোগীরা জানান, পরিষদ প্রাঙ্গণে সক্রিয় দালালদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন করলেই কেবল দ্রুত মেলে সেবা। পক্ষান্তরে, সরাসরি সরকারি নিয়মে সেবা নিতে এসে চরম লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। ​সম্প্রতি সরেজমিনে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা যাচাইয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন সংবাদকর্মীরা। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডল কৌশলে কার্যালয় ছেড়ে দ্রুত সটকে পড়েন। এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সচিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে সচিবের মিটিংয়ে থাকার অজুহাত দেন। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “ভাই, আমাদের নামে নিউজ করার দরকার নেই, আমি কিছু খরচা দিচ্ছি।” ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে অনিয়ম থাকলেও বর্তমান সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডলের যোগদানের পর তা চরম আকার ধারণ করেছে। এভাবে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য চলতে থাকলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হবে। অবিলম্বে এই প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত সচিব ও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে সেবামুখী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

abu hanif

Popular Post

আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সচিব-উদ্যোক্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য: অতিরিক্ত ফি আদায়ে দিশেহারা সেবাগ্রহীতারা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
14 September 2026

দেবিদ্বারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাশেমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সচিব-উদ্যোক্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য: অতিরিক্ত ফি আদায়ে দিশেহারা সেবাগ্রহীতারা

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ১২:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীরের

সাভারের আশুলিয়াইউনিয়ন পরিষদ এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নাগরিক সেবা নিতে এসে পদে পদে ভোগান্তি ও নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিষদ সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডল ও উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে প্রকাশ্য ঘুষ ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এমনকি সংবাদ প্রকাশের খবর পেয়ে সাংবাদিককে ‘খরচা’ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টাও চালিয়েছেন অভিযুক্ত উদ্যোক্তা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদের মতো মৌলিক সেবা পেতে সরকার নির্ধারিত ফির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ, এমনকি চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কিংবা নির্দিষ্ট দালাল চক্রের শরণাপন্ন না হলে ফাইল আটকে রেখে মাসের পর মাস ঘোরানো হয় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক এই অর্থ সংগ্রহের কাজে পরিষদের কিছু গ্রাম পুলিশকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এই সিন্ডিকেট। ​ভুক্তভোগীরা জানান, পরিষদ প্রাঙ্গণে সক্রিয় দালালদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন করলেই কেবল দ্রুত মেলে সেবা। পক্ষান্তরে, সরাসরি সরকারি নিয়মে সেবা নিতে এসে চরম লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। ​সম্প্রতি সরেজমিনে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা যাচাইয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন সংবাদকর্মীরা। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডল কৌশলে কার্যালয় ছেড়ে দ্রুত সটকে পড়েন। এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সচিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে সচিবের মিটিংয়ে থাকার অজুহাত দেন। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “ভাই, আমাদের নামে নিউজ করার দরকার নেই, আমি কিছু খরচা দিচ্ছি।” ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে অনিয়ম থাকলেও বর্তমান সচিব শ্যাম সুন্দর মণ্ডলের যোগদানের পর তা চরম আকার ধারণ করেছে। এভাবে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য চলতে থাকলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হবে। অবিলম্বে এই প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত সচিব ও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে সেবামুখী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Share this news as a Photo Card