০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণে ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয়, তবুও রোগীদের কোন ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না 

 

মোঃ রাসেল হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ক্লিনিকে।

 

২০১৪ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫৪৬ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫১ কোটিতে। ২০১৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালের মধ্যে হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি, নির্মাণ ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবসহ নানা কারণে বারবার কাজ পিছিয়ে যায়।

 

 

প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ঝালকাঠির খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স (জেভি)। সূত্র জানায়, ভবনের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ বাকি রয়েছে। এ কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগে হস্তান্তর করা হয়নি। পুরোনো ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর চাপ তিনগুণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর সঙ্গে থাকা শাহিদা বেগম বলেন, “একটি বেডে তিনজন শিশু ও তাদের মায়েদের থাকতে হচ্ছে। এই কষ্ট অসহনীয়।” একই অভিযোগ করেন রোগীর স্বজন কোহিনুর বেগম ও রহিম হাওলাদার। রহিম বলেন, “নতুন ভবন দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আমরা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি—এটা খুবই দুঃখজনক।”

 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “নতুন ভবন চালু হলে ৫০০ শয্যার সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে, যা রোগীর চাপ অনেকটাই কমাবে। সাবস্টেশন ও অক্সিজেন লাইনের কাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই ভবনটি বুঝে পাব।”

 

প্রকল্প পরিচালক ডা. এস এম কবির হাসান জানান, “নানা কারণে কাজ পিছিয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।”

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ সংযোগের প্রস্তাব খুলনার বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ভবন চালু করা সম্ভব হবে।”

 

ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

নেপালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ছওয়াব ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পন্ন।

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
13 September 2026

ধামইরহাটে ডেংগু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিছন্নতার অভিযান।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণে ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয়, তবুও রোগীদের কোন ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না 

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০১:২৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

 

মোঃ রাসেল হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ক্লিনিকে।

 

২০১৪ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫৪৬ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫১ কোটিতে। ২০১৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালের মধ্যে হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি, নির্মাণ ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবসহ নানা কারণে বারবার কাজ পিছিয়ে যায়।

 

 

প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ঝালকাঠির খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স (জেভি)। সূত্র জানায়, ভবনের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ বাকি রয়েছে। এ কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগে হস্তান্তর করা হয়নি। পুরোনো ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর চাপ তিনগুণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর সঙ্গে থাকা শাহিদা বেগম বলেন, “একটি বেডে তিনজন শিশু ও তাদের মায়েদের থাকতে হচ্ছে। এই কষ্ট অসহনীয়।” একই অভিযোগ করেন রোগীর স্বজন কোহিনুর বেগম ও রহিম হাওলাদার। রহিম বলেন, “নতুন ভবন দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আমরা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি—এটা খুবই দুঃখজনক।”

 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “নতুন ভবন চালু হলে ৫০০ শয্যার সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে, যা রোগীর চাপ অনেকটাই কমাবে। সাবস্টেশন ও অক্সিজেন লাইনের কাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই ভবনটি বুঝে পাব।”

 

প্রকল্প পরিচালক ডা. এস এম কবির হাসান জানান, “নানা কারণে কাজ পিছিয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।”

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ সংযোগের প্রস্তাব খুলনার বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ভবন চালু করা সম্ভব হবে।”

 

ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।

Share this news as a Photo Card