১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা শেখাতে কলাপাড়া ইউএনও’র ক্যাম্পেইন।

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ১১৭ সম্পাদক ও প্রকাশক

 

মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু )বরিশাল ব্যুরো:

দেশের দক্ষিণ উপকূলের আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষার বর্ণমালা শিক্ষা ও ভাষা চর্চা নিশ্চিত করতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। ২ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ও আমখোলা রাখাইন পল্লীতে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিপির সহকারী পরিচালক মো. আছাদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাখাইন মংম্যা এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার আটটি রাখাইন পল্লীতে পর্যায়ক্রমে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। কর্মসূচির আওতায় রাখাইন শিশুদের মাঝে মাতৃভাষার বর্ণমালার বই, খাতা, কাগজ ও পেন্সিল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা পড়া ও লেখার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। জানা গেছে, পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, কলাপাড়া ও খেপুপাড়ায় বসবাসরত রাখাইন সম্প্রদায় তাদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জীবনধারার কারণে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তবে আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের অনেক শিশু নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও লিখতে বা পড়তে পারে না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা শেখানোর জন্য প্রতিটি পল্লীতে একজন করে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। পাড়ার মাদবর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পুরো কার্যক্রম তদারকি করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন শিশু তাদের মাতৃভাষার বর্ণমালা শেখার সুযোগ পাবে।” বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতা রাখাইন মংম্যা বলেন, “স্বল্প পরিসরে হলেও এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে রাখাইন শিশুদের একটি বড় অংশ মাতৃভাষা পড়া ও লেখার সুযোগ পাবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকবে।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

নেপালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ছওয়াব ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পন্ন।

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
13 September 2026

ধামইরহাটে ডেংগু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিছন্নতার অভিযান।

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা শেখাতে কলাপাড়া ইউএনও’র ক্যাম্পেইন।

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 

মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু )বরিশাল ব্যুরো:

দেশের দক্ষিণ উপকূলের আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষার বর্ণমালা শিক্ষা ও ভাষা চর্চা নিশ্চিত করতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। ২ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ও আমখোলা রাখাইন পল্লীতে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিপির সহকারী পরিচালক মো. আছাদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাখাইন মংম্যা এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার আটটি রাখাইন পল্লীতে পর্যায়ক্রমে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। কর্মসূচির আওতায় রাখাইন শিশুদের মাঝে মাতৃভাষার বর্ণমালার বই, খাতা, কাগজ ও পেন্সিল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা পড়া ও লেখার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। জানা গেছে, পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, কলাপাড়া ও খেপুপাড়ায় বসবাসরত রাখাইন সম্প্রদায় তাদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জীবনধারার কারণে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তবে আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের অনেক শিশু নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও লিখতে বা পড়তে পারে না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা শেখানোর জন্য প্রতিটি পল্লীতে একজন করে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। পাড়ার মাদবর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পুরো কার্যক্রম তদারকি করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন শিশু তাদের মাতৃভাষার বর্ণমালা শেখার সুযোগ পাবে।” বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতা রাখাইন মংম্যা বলেন, “স্বল্প পরিসরে হলেও এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে রাখাইন শিশুদের একটি বড় অংশ মাতৃভাষা পড়া ও লেখার সুযোগ পাবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকবে।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।

Share this news as a Photo Card