মোঃ রাজন মাদবর নিজস্ব প্রতিবেদক।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সোলায়মান হক সেলুন জোয়ার্দার এর মেয়াদকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত থাকা ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ কুষ্টিয়া ম্যাটস এ গত ৯/৯/২৪ ইং তারিখে পদায়ন হন অধ্যক্ষ হিসাবে তার ১ মাস পর অর্থাৎ ৯/১০/২৪ ইং তারিখে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে পদোন্নতি পান।
তার কিছুদিন পরেই অর্থাৎ ২৫/১২/২৪ ইং তারিখে চুয়াডাঙ্গা জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের সূত্র শুরু হয় এবং তার নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডক্টরস কেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল নামক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সুবিধাজনক সকল পথ উন্মুক্ত করেন।
তারপর থেকেই শুরু হয় তার অন্তর্নিহিত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিহিংসা,স্বেচ্ছাচারিতাসহ এহন কোন কাজ নাই এই কর্মকতা করে যাচ্ছেন না। অথচ সিভিল সার্জন প্রদায়ন নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী ফিট লিস্ট ভুক্ত কর্মকর্তা কে সিভিল সার্জন পদে নিয়োগের বিধান না থাকলেও চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত।
তথ্য অনুসন্ধানে সিভিল সার্জন ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ উদয়পুর গ্রামের মৃত আহমেদ আলীর সন্তান। তার স্ত্রী ও ডাাঃশারমিন আক্তার যাদবপুর গ্রামের মৃত আবু সাঈদের কন্যা। দুইজন একই জেলার ভিতরে প্রশাসনিক পোস্টে থাকায় তাদের থেকে অনেক সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও অসম্মানজনক আচারনের শিকার হতে হয়। এক্ষেত্রে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দ্বিধাবোধ করেন না বলে জানা যায়।
একজন সিভিল সার্জন কিভাবে নিজ জেলায় পোস্টিং নিয়ে সারাদিন নিজের ক্লিনিকে অপারেশন করে থাকে।
এছাড়া নিজে যেখানে অপারেশন করে সেইটা ছাড়া অন্য সব ক্লিনিকে যথাসাধ্য ব্যবস্থা থাকা সত্বেও বন্ধ করা থেকে শুরু করে যত প্রকার অসুবিধা করা যায় সবগুলি করে থাকেন সম্পূর্ণ তার নিজ ক্ষমতা বলে এবং এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন আক্তার বর্তমান সিভিল সার্জন ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী।
এই উপজেলাতে সিভিল সার্জন এর প্রভাবের বলে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন আক্তার স্টাফদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নিজ ক্লিনিকে নিয়ে আসার ব্যাপারে ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়।
স্বেচ্ছাচারিতার বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে অনেক স্টাফরা ছুটি চাইতে গেলে পরিবারের কেউ মারা গেলেও ছুটি পায় না। তবে নিজের আনুগত্যের কাউকে সুযোগ-সুবিধার জন্য কখনো ভুগতে হয় না। স্বামী সিভিল সার্জন, ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এমনকি মন্রীদের সাথে সম্পর্ক থাকার ভয় দেখিয়ে হুমকিতে রাখেন।
সিভিল সার্জন এর ক্লিনিক ২০ সজ্জা বিশিষ্ট কিন্তু সেখানে ৬ জন ডাক্তার থাকার কথা ১২ জন ডিপ্লোমা সিস্টার থাকার কথা কিন্তু সেখানে আছে একজন ডাক্তার একজন ডিপ্লোমা সিস্টার নিজের ক্লিনিক আছে বিধায় অন্য প্রতিষ্ঠান সবকিছু থাকলেও বন্ধ করে দেন তার পছন্দের ক্লিনিকে ডাক্তার নার্স না থাকলেও সেসব ক্লিনিকে কোন সমস্যা না।
ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দীন আহমদের পছন্দের ক্লিনিক ডক্টরকেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল, ইউনাইটেড ক্লিনিক মা ক্লিনিক নূর মোহাম্মদ মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ হাতে গুনা বাকি গুলোর ক্ষেত্রে প্রতিহিংসার শিকার হতে হয় বিভিন্ন সময়ে।
নিজ জেলায় পোস্টিং নিয়ে তার ক্লিনিক চালানো হচ্ছে মূল পেশা জেলাতে থাকার কথা থাকলেও সারাক্ষণ আলমডাঙ্গা উপজেলায় অপারেশন করে বেড়ান এই সিভিল সার্জন। এছাড়া তার স্ত্রী আলমডাংগা উপজেলা স্বাস্হ্য পঃ ও পঃ কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অসদ আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করে, ডাঃ শারমিন আক্তার আচরণ সম্পর্কে বলেন, তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীন নেতাদের আত্মীয় পরিচয় সেই সাথে নিজের স্বামী সিভিল সার্জন হওয়ার দাপট এবং উচ্চ পর্যায়ে তিনার মন্ত্রী লেভেলের হাত আছে বলে দম্ভ দেখাইয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রীর দুজনার রশনালে পড়েছে অনেকে তার ফলস্বরূপ তাদেরকে আলমডাঙ্গা থেকে বিতাড়িত করার জন্য বিভিন্ন রকম মিথ্যা ইস্যু বানিয়ে বদলি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে আরও তথ্য উঠে আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে সদ্য বদলি হওয়া একজন স্টাফ বদলি হওয়ার পর আবারো মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে তিন মাসের মধ্যে বদলী করানো হয়েছে বলে জনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, ডাঃ শারমিন আক্তার দাম্ভিকথার বিষয়টি আছে এছাড়া চুয়াডাঙ্গার বাইরে কর্মরত স্টাফদের সহিতও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হয়রানীমুলক আচরনের তথ্য পাওয়া যায়। যাহা অত্যন্ত অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।
বিগত দিনে তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াতে সিভিল সার্জন ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং স্বাস্হ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য সচিব বরাবর অভিযোগ পাওয়া গেলেও বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি, ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এরপরে আরো প্রভাবের মাত্রা বেড়ে গেছে বলে জনগণের ধারণা।
এই বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি আদেশের পর আবারও দ্রুত সময়ে উক্ত স্হান হতে কাউকে বদলী বদলি করার বিষয়টা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। তার উত্তরে তিনি জানান, এটি অনেক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে হতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীর সংসদ সদস্যের সহিত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
Reporter Name 


















