
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ’র (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর ৩০ বছর পর আবারও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে ঘটনা। ঢাকার একটি আদালত তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও নতুন ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে শিগগিরই। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহ’র মরদেহ। তখন আত্মহত্যা বলে মামলা হয়। কিন্তু তার পরিবার ও ভক্তরা সবসময়ই সন্দেহ করে এসেছেন যে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যা। বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলন, আবেদন এবং নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত বছর আদালত এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করেন। আর এখন, তদন্তের অংশ হিসেবে লাশ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত এসেছে। ভক্তদের প্রতিক্রিয়া: খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া ও রাস্তায় ভক্তদের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “অবশেষে সত্য বেরিয়ে আসবে। সালমান ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।” কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এত বছর পর কোনো তথ্য-প্রমাণ অবশিষ্ট আছে কি না। তবে সবার মধ্যেই একটা সাধারণ অনুভূতি এই পদক্ষেপটি দেরিতে হলেও ন্যায়বিচারের দিকে একটি বড় ধাপ। সালমান শাহ ছিলেন ৯০-এর দশকের ঢালিউডের সুপারস্টার। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে ‘তুমি আমার’ , ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করে কোটি যুবক-যুবতীর হৃদয় জয় করেন। তার অকালমৃত্যু শুধু পরিবার নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তদন্ত কী বলছে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করে জানিয়েছেন, নতুন ফরেনসিক পরীক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ নির্ণয় করা সম্ভব। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। সালমান শাহ’র মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করছেন। দেশবাসী এখন অপেক্ষায় আছে — কী বেরিয়ে আসে এই নতুন তদন্ত থেকে? সত্যিই কি ছিল হত্যা, নাকি অন্য কোনো অজানা গল্প লুকিয়ে আছে?
সালমান শাহ — তোমার অবর্তমানেও তোমাকে ভুলতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার হয়তো সত্যিটা জানা যাবে।
Reporter Name 



















