০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলা তুলে না নিলে স্বামী-স্ত্রীকে জেলে পাঠানোর হুমকি: আদালত কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • Reporter Name
  • মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৩:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪ সম্পাদক ও প্রকাশক

A man is seen handling currency notes in an office environment.

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লায় আদালতের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদ ও প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা এবং বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী *মোসাঃ নাছিমা আক্তার* সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে নাছিমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি প্রথমে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত মোঃ গোলাম কবির-এর প্রভাবের কারণে থানা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং সি.আর মামলা নং- ৮৩৫/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রেরণ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গোলাম কবির তার পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছেন। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো পর্যন্ত কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেননি। নাছিমা আক্তারের দাবি, গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত গোলাম কবির এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। মামলা তুলে না নিলে তাকে এবং তার স্বামীকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারী আরও বলেন, কুমিল্লা আদালতে গোলাম কবিরের নামে তার আরও একটি মামলা রয়েছে। গোলাম কবিরের ভয়ে তিনি আদালতে হাজিরা দিতে পারছেন না। অভিযুক্ত বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে ফোন করিয়ে তাকেও আবার জেলে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মোঃ গোলাম কবির পূর্বে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মুন্সিখানায় পেশকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘুষ গ্রহণের কিছু স্থিরচিত্র সাংবাদিকরা সংগ্রহ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গোলাম কবির দীর্ঘ ১০ মাস তার কর্মস্থল থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেজারত শাখায় প্রেষনে হিসেবে যোগদান করেছেন।নাসিমা আক্তার বলেন পেশকার মোঃ গোলাম কবির কে বিশ্বাস করিয়া তাকে জামিন করার উদ্দেশ্যে কবির তাহার স্বামী মোস্তফার কাছে এক লক্ষ টাকা চাইলে, স্বামী তাহার উপর বিশ্বাস করিয়া এবং স্ত্রীকে নাছিমাকে দ্রুত জেলখানা হইতে বাহির করার জন্য তাহাকে নগদ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পেশকার আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সে টাকা দিতে অশকৃতি প্রদান করিলে পেশকার তার স্ত্রী নাসিমেকে জামিনে মুক্তি না করিয়া তাহাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করা বন্ধ করে দেয় অভিযোগকারী আরও বলেন, গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারও বিরুদ্ধে কিছু বললে তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। তার কথায় যাকে-তাকে মামলা দেওয়া হয়, যাকে-তাকে জেলে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন নাছিমা আক্তার। অভিযোগকারী জানান, গোলাম কবিরের কথিত অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি ছবি এবং সি.আর মামলা নং- ৮৩৫/২০২৬ এর সার্টিফায়েড কপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। নাছিমা আক্তার বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ গোলাম কবির এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
About Author Information

Md.Alihossain Molla

Popular Post

বুড়িচংয়ে মেয়র প্রার্থী জাবেদ কাউছার সবুজের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
দৈনিক আমাদের চেতনায় প্রতিদিন
20 August 2026

লাকসামে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ

www.dailyamaderchetanaypratidin.com |
https://www.facebook.com/share/17ZfnZGsZm/

মামলা তুলে না নিলে স্বামী-স্ত্রীকে জেলে পাঠানোর হুমকি: আদালত কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ আলী হোসেন মোল্লা ০৩:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লায় আদালতের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদ ও প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা এবং বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী *মোসাঃ নাছিমা আক্তার* সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে নাছিমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি প্রথমে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত মোঃ গোলাম কবির-এর প্রভাবের কারণে থানা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং সি.আর মামলা নং- ৮৩৫/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রেরণ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গোলাম কবির তার পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছেন। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো পর্যন্ত কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেননি। নাছিমা আক্তারের দাবি, গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত গোলাম কবির এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। মামলা তুলে না নিলে তাকে এবং তার স্বামীকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারী আরও বলেন, কুমিল্লা আদালতে গোলাম কবিরের নামে তার আরও একটি মামলা রয়েছে। গোলাম কবিরের ভয়ে তিনি আদালতে হাজিরা দিতে পারছেন না। অভিযুক্ত বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে ফোন করিয়ে তাকেও আবার জেলে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মোঃ গোলাম কবির পূর্বে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মুন্সিখানায় পেশকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘুষ গ্রহণের কিছু স্থিরচিত্র সাংবাদিকরা সংগ্রহ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গোলাম কবির দীর্ঘ ১০ মাস তার কর্মস্থল থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেজারত শাখায় প্রেষনে হিসেবে যোগদান করেছেন।নাসিমা আক্তার বলেন পেশকার মোঃ গোলাম কবির কে বিশ্বাস করিয়া তাকে জামিন করার উদ্দেশ্যে কবির তাহার স্বামী মোস্তফার কাছে এক লক্ষ টাকা চাইলে, স্বামী তাহার উপর বিশ্বাস করিয়া এবং স্ত্রীকে নাছিমাকে দ্রুত জেলখানা হইতে বাহির করার জন্য তাহাকে নগদ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পেশকার আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সে টাকা দিতে অশকৃতি প্রদান করিলে পেশকার তার স্ত্রী নাসিমেকে জামিনে মুক্তি না করিয়া তাহাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করা বন্ধ করে দেয় অভিযোগকারী আরও বলেন, গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারও বিরুদ্ধে কিছু বললে তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। তার কথায় যাকে-তাকে মামলা দেওয়া হয়, যাকে-তাকে জেলে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন নাছিমা আক্তার। অভিযোগকারী জানান, গোলাম কবিরের কথিত অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি ছবি এবং সি.আর মামলা নং- ৮৩৫/২০২৬ এর সার্টিফায়েড কপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। নাছিমা আক্তার বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ গোলাম কবির এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।

Share this news as a Photo Card